ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাভার উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এনসিপি নেতাদের থানায় পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সেখানে তারা লিখিত এজাহার জমা দেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো কিছুই তদন্তের বাইরে রাখা হবে না।’ এই ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেন।
বিস্ফোরণের পর সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ‘আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? আমাদের খুন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাভার থেকে আমরা আগস্টের কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। কিন্তু প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করে বোমা ফোটানো হয়েছে। এই সরকারকে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই—এর জবাব দিতে হবে। কেন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।’
সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনার পর দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সাভার থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা থানার ভেতরে গিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। থানা থেকে বের হয়ে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ যদি আজ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামীকাল সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা থাকবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাদক-কারবারি ও সন্ত্রাসীরা সাভারের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশের সামনে ককটেল ও বোমা মেরে সহজে পালিয়ে যেতে পেরেছে। এর মানে এটার পেছনে বড় কোনো গ্রুপ জড়িত এবং রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিতভাবেই এটি করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে প্রশাসনের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা-ও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।’
সময়ের আলো/জেডি