ভারী বর্ষণ থামছেই না, বন্যা আতঙ্কে সাতকানিয়ার মানুষ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা ২ দিনের ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

2026-07-07T10:34:02+00:00
2026-07-07T10:38:09+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ভারী বর্ষণ থামছেই না, বন্যা আতঙ্কে সাতকানিয়ার মানুষ
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম  আপডেট: ০৭.০৭.২০২৬ ১০:৩৮ এএম
পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে নদী ও খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা ২ দিনের ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একটানা মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে নদী-খালগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ সোমবারও অব্যাহত থাকে। দিনের পুরোটা সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হননি। উপজেলার কেরানীহাট, সাতকানিয়া সদর, বাজালিয়া, এওচিয়া, চরতি, ছদাহা, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনা, খাগরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ও সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। টানা বৃষ্টিতে অনেক গ্রামীণ সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও নিচতলায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে, গ্রামীণ কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে এবং দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের।


এদিকে, পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চললে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

টানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে। পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো ধসের আশঙ্কায় সময় পার করছেন। অতীতের অভিজ্ঞতায় ভারী বর্ষণের সময় এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এবারও পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

টানা বর্ষণের মধ্যেই সাতকানিয়ার মানুষের মনে ফিরে এসেছে ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি। ওই বছরের আগস্ট মাসে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছিল। নদী-খালগুলোর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কেঁওচিয়া, এওচিয়া, বাজালিয়া, ছদাহা, ধর্মপুর, চরতি, খাগরিয়া, কাঞ্চনা, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ, পুরানগড়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। সে সময় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বহু বাড়িঘরে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি উঠে যায়। ডুবে যায় অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয় এবং বহু মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। কৃষিজমি, পুকুর, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।


২০২৩ সালের সেই বন্যায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়ে গিয়েছিল। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় প্রশাসন। দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও টানা বর্ষণ শুরু হতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাতকানিয়ার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আরও দুই-তিন দিন একইভাবে বৃষ্টি হলে ২০২৩ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাধ্যমে মাইকিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বর্ষণ  বন্যা  আতঙ্ক  সাতকানিয়া  চট্টগ্রাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: