খাদ্য অধিদফতর কর্তৃক সরবরাহ করা পাটের বস্তা সংকটে কৃষিপ্রধান জেলা শেরপুরে বন্ধ রয়েছে বোরো মৌসুমের সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় অর্ধেক কেটে গেলেও সংগ্রহ অর্জন এখনও পর্যন্ত এক চতুর্থাংশ। ফলে, সরকারি মূল্যে ধান দিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়া কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ১১ হাজার ২২৯ মেট্রিকটন ও ২৫ হাজার ৬৯৬ মেট্রিকটন। এরমধ্যে ৪ জুলাই পর্যন্ত চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে ১৬ হাজার ৪শ মেট্রিকটন। অন্যদিকে, ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ২শ মেট্রিকটন। এ হিসেবে ধানের সংগ্রহ এক চতুর্থাংশের কাছাকাছি। এখনও বাকি রয়েছে ৮ হাজার ২৯ মেট্রিকটন ধান।
গত ১১ মে ধান ও চাল সংগ্রহ উদ্বোধন করা হয় নালিতাবাড়ীতে। এ উপজেলায় ২ হাজার ৮২৯ মেট্রিকটন ধান ও ৭৮১ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। একই দিন নকলায়ও সংগ্রহ উদ্বোধন করা হয়। এ উপজেলায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ধান ১ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ও চাল ৩৩০ মেট্রিকটন।
গত ১৬ মে শেরপুর সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়। সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ধান ২ হাজার ৯৪৬ মেট্রিকটন, চাল ১৯ হাজার ৬৯০ মেট্রিকটন ও আতপ চাল ১ হাজার ৮২৬ মেট্রিকটন।
১৭ মে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ উদ্বোধন করা হয় ঝিনাইগাতি উপজেলায়। এ উপজেলায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিকটন ধান, চাল ২ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন। একই দিনে শ্রীবরদীতে আভ্যন্তরীণ ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়। এ উপজেলায় ধান ২ হাজার ১৪৮ মেট্রিকটন ও ৩৬৮ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
সরকারের দেওয়া নির্ধারিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা এবং প্রতি কেজি আতপ চাল ৪৮ টাকা। সরকারি হিসেবে প্রতিমণ ধানে কৃষক দাম পায় ১ হাজার ৪৪০ টাকা।
তবে, মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে, সরকারের কাছে ধান বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অবশ্য, কাগজে-কলমে কৃষক দেখানো হলেও বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা চলে যায় সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। ফলে, অনেক কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছিল না। এরই মাঝে নতুন করে আবর্তিত হয় বস্তার সংকট।
জুলাইয়ের ৪ তারিখ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশ সরকারি সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে সৃষ্টি হয় বস্তার সংকট। ফলে কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে এলেও, বস্তা না থাকায় ফিরে যেতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, কেউ সরাসরি গুদামে ধান নিয়ে এসে জানতে পারেন বস্তা নেই। ফলে, ওই ধান আবার ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। আবার, অনেকেই গুদামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বর্তমানে বস্তা নেই। ফলে, তারা ধান আনতেই পারেননি। বস্তার সংকটের এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে কৃষকদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভুঁইয়া জানান, শুধু শেরপুর জেলাই নয়, পুরো দেশেই বস্তার সংকট চলছে। মূলত খাদ্য অধিদফতরের কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। অতিদ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। যেহেতু সরকারিভাবে সংগ্রহের সময়সীমা আরও প্রায় ২ মাস বাকি রয়েছে, কাজেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।’
সময়ের আলো/মহু