সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণ বিতরণকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানও রয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাঈদুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ ও তার ভাই হাবিবুর রহমান হবি, বংশীপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন, রায়হান কবীর, সোলায়মান গাজী, শহীদুল গাজী ও তার ভাই শফিউল্লাহ, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী ও তার ভাই আব্দুল কাদের এবং মোজাম গাজী।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের আবুল হোসেন সরদারের ছেলে আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে শ্যামনগর এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের খোঁজখবর নিতে ও ত্রাণ বিতরণের জন্য ২০২০ সালের ২১ জুন সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল যোগে শ্যামনগর থেকে কাশিমাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
গাড়িবহরটি কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালি ব্রিজের ওপর পৌঁছালে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম জগলুল হায়দার, সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলন, নূরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী এবং অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দারসহ আসামিরা লোহার রড, দা, লাঠি ও ককটেল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শেখ শাহারিয়ার মাসুদ, রাসেল, মোক্তার হোসেন ও আনিসুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া হামলকারীরা ৫ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও ওষুধ নষ্ট করে দেয় এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এই ঘটনায় জিএম জগলুল হায়দারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করে শ্যামনগর থানায় মামলা করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বখতিয়ার আহম্মেদ, শোকর আলীসহ ওই ১০ জন হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। গত ১১ মে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের দ্বৈত বেঞ্চ আসামিদের আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে তাদের সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার আসামিরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিকের মাধ্যমে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাঈদুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক আসামিপক্ষের জামিন আবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন আওয়ামী লীগের ১০ নেতা কর্মীর জামিন না’মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সময়ের আলো/জোই