নেপোকিডের তকমা ভেঙে স্পেনের ত্রাতা

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

কখনো তাকে বলা হয়েছে শুধু বিখ্যাত বাবার পরিচয়ে উঠে আসা ফুটবলার। কখনো তার ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় কালো মেঘে ঢেকেছে, কখনো তাকে

2026-07-08T05:12:17+00:00
2026-07-08T05:12:17+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
খেলা
নেপোকিডের তকমা ভেঙে স্পেনের ত্রাতা
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১২ এএম 
মিকেল মেরিনো। সংগৃহীত ছবি
কখনো তাকে বলা হয়েছে শুধু বিখ্যাত বাবার পরিচয়ে উঠে আসা ফুটবলার। কখনো তার ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় কালো মেঘে ঢেকেছে, কখনো তাকে এক ক্লাব থেকে আরেক ক্লাবে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। আবার এমন সময়ও এসেছে, যখন গুরুতর চোটের কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। 

অথচ সেই মিকেল মেরিনোই এখন স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের একজন। পর্তুগালের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে জয়সূচক গোল করে তিনি দলকে তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে আর নিজের জীবনের সংগ্রামের গল্পে যোগ করেছেন নতুন এক অধ্যায়।

ফুটবল যেন মেরিনোর রক্তেই ছিল। তার বাবা অ্যাঞ্জেল মেরিনো স্পেনের শীর্ষ লিগে দীর্ঘদিন খেলেছেন। এমন পারিবারিক পরিচয় অনেকের কাছে আশীর্বাদ হলেও মিকেলের জন্য তা হয়ে উঠেছিল বাড়তি প্রত্যাশার বোঝা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে শুনতে হয়েছে। বাবার নাম না থাকলে হয়তো এত দূর আসা সম্ভব হতো না। এই ‘নেপোকিড’ তকমা অনেক দিন তার পরিচয়ের সঙ্গেই জুড়ে ছিল।

স্পেনের ওসাসুনার একাডেমি থেকে উঠে এসে মূল দলে জায়গা করে নেন মেরিনো। প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন কিন্তু ধারাবাহিকতা গড়ে তোলার আগেই শুরু হয় নতুন ঠিকানা খোঁজার যাত্রা। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে সুযোগ পেলেও সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। পরে ইংল্যান্ডে নিউক্যাসল ইউনাইটেডেও কাটিয়েছেন সময় কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ছাপ রাখতে ব্যর্থ হন। অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন, মেরিনো হয়তো বড় মঞ্চের ফুটবলার নন।

ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় স্পেনে ফিরে। রিয়াল সোসিয়েদাদে যোগ দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের সেরা রূপ খুঁজে পান। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, আকাশে আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ক্লাবের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে জায়গা পান জাতীয় দলেও। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

এরপর আসে শৈশবের স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। ২০২৪ সালে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালে যোগ দেন মেরিনো। কিন্তু নতুন অধ্যায়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অনুশীলনের সময়ই কাঁধে চোট পেয়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। চোট কাটিয়ে ফেরার পরও দুর্ভাগ্য তাকে ছাড়েনি। পায়ের জটিল স্ট্রেস ইনজুরি ও হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার তার ক্যারিয়ারকে আবারও থামিয়ে দেয়। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ সময়জুড়ে এমন অবস্থাও তৈরি হয়েছিল, যখন অন্যের সহায়তা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও সম্ভব ছিল না।


এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ান তার স্ত্রী। নিজেও সন্তানসম্ভবা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি মুহূর্তে পাশে ছিলেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেননি মেরিনোকে। পরে এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার স্বীকার করেছিলেন, এমন দিনও কেটেছে যখন তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আদৌ আবার পেশাদার ফুটবলে ফিরতে পারবেন কি না।

কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অনেক বড় গল্পের মতো মেরিনোর গল্পেও শেষ কথা বলেনি দুর্ভাগ্য। ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস তাকে ফিরিয়ে আনে আগের চেয়েও শক্তিশালী রূপে। ক্লাব ফুটবলে আবার নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন আর জাতীয় দলের জার্সিতেও হয়ে ওঠেন নির্ভরতার প্রতীক।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে সেটাই আরও একবার দেখা গেল। মাঝমাঠে নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তেও ছিলেন তিনিই। তার গোলেই স্পেন নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ভিতিনিয়ার দলের কাছে হতাশ হতে হয়েছিল, সেই মেরিনো এবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে হাসলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল হাসি।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 




  বিষয়:   নেপোকিড  তকমা  ভেঙে স্পেন  ত্রাতা  মেরিনো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: