হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ৭২ লাখ টাকার বিদ্যালয় ভবন, তদন্ত শুরু

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর পশ্চিম রাজাপুর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি হস্তান্তরের আগেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিন

2026-07-08T08:09:36+00:00
2026-07-08T08:09:36+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
হস্তান্তরের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ৭২ লাখ টাকার বিদ্যালয় ভবন, তদন্ত শুরু
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ এএম 
রাজাপুর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর পশ্চিম রাজাপুর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি হস্তান্তরের আগেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিন কক্ষবিশিষ্ট এই একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে ভবনটির মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ফলে বাধ্য হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে এই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন’। তবে পরবর্তীতে কাজটি হাতবদল হয়ে ‘মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

নির্মাণকাজ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ও মূল প্রবেশদ্বারের ঢালু সিঁড়িতে ডজনখানেক দৃশ্যমান ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝের (ফ্লোর) আস্তর উঠে ফোসকা পড়ে গেছে। মাত্র ছয় মাসের মাথায় খসে পড়ছে দেয়ালের রং।


কাঁচা ও নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে প্রতিটি দরজা বেঁকে গেছে এবং জোড়া ছুটে গেছে। কাঠের অসংখ্য ছিদ্র পুডিং ও রং দিয়ে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। দরজা আটকানোর ছিটকানি ও তালায় ইতোমধ্যে মরিচা ধরেছে। লোহার ভেন্টিলেটারগুলো সিমেন্ট দিয়ে সঠিকভাবে আটকানো হয়নি।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় এসএস ও আরএস পাইপের তৈরি বেষ্টনীর খুঁটির নিচের পাত মেঝের সাথে সঠিকভাবে জোড়া দেওয়া হয়নি। এতে যেকোনো সময় শিশুরা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।

নতুন ভবন নির্মাণের সময় পুরাতন ভবনের বারান্দায় অতিরিক্ত সিমেন্ট স্তূপ করে রাখায় ফ্লোর ফেটে দেবে গেছে। ঠিকাদারকে জানানোর পরও তিনি তা সংস্কার করেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহারে ঘাটতি ছিল। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার উল্টো তাদের নামে ‘চাঁদাবাজি মামলা’র হুমকি দেন। এমনকি সাইটে কর্মরত শ্রমিকদের রড দিয়ে মারধর করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, রাজাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার ঠিকাদারকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়েছেন। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে ভাগবাঁটোয়ারা ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই এই ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু সমস্ত অনিয়ম অস্বীকার করে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে স্পষ্ট ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবনটি বুঝে নিচ্ছেন না।

গণমাধ্যমে অনিয়মের খবর প্রকাশের পর গত সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফারহানা ইয়াসমিন বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ল্যাব পরীক্ষার জন্য নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেন।

ফারহানা ইয়াসমিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। বিস্তারিত খতিয়ে দেখে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   হস্তান্তর  ঝুঁকিপূর্ণ  বিদ্যালয় ভবন  তদন্ত শুরু  ঝালকাঠি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: