টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কবাখালী, মেরুং, বোয়ালখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি, আঙিনা ও প্রধান সড়কগুলো সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক এলাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে এবং তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে মাইনী নদীর পানি উপচে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও জরুরি সেবাগ্রহীতারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সকাল থেকেই দুর্গত এলাকার পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা (জ্ঞানো) জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানি এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ জানান, বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/জেডি