৪ দিনের বৃষ্টিতেই বেহাল ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়ক

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

সারাদেশ

খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে মাত্র চার দিনের টানা বৃষ্টিতেই পিচঢালা কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। ২৬ কিলোমিটারের

2026-07-08T19:45:35+00:00
2026-07-08T19:45:35+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
৪ দিনের বৃষ্টিতেই বেহাল ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়ক
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম 
ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়কে। ছবি : সময়ের আলো
খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে মাত্র চার দিনের টানা বৃষ্টিতেই পিচঢালা কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। ২৬ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানচলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তীব্র জনদুর্ভোগ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকা থেকে শুরু করে ঝালকাঠির বরিশাল প্রান্তের কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত ২৬.৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পিচ ও পাথর উঠে গেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব খানাখন্দে পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে না। ফলে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও তিন চাকার ছোট যানবাহনগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, গত বছর বর্ষা মৌসুমেও সড়কটি চরম বেহাল অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে শুকনো মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কটির কার্পেটিং ও সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই মাত্র চার দিনের বৃষ্টিতে সেই সংস্কার কাজের আসল রূপ প্রকাশ পেয়ে গেছে। 

ওই রুটের বাসচালক মাহবুব ও আলমগীর জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রীদের দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হয়। কিন্তু এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে হুটহাট গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে এবং গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় ইজিবাইক চালকদের দাবি, রাতে খানাখন্দগুলো দেখা না যাওয়ায় চাকা আটকে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীরাও খানাখন্দের কর্দমাক্ত পানি ছিটকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রুট এটি। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেও সড়কটির স্থায়িত্ব কমছে।


সড়কের এই দ্রুত ভাঙনের বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল-আমীন এক অদ্ভুত দাবি করেছেন। তিনি জানান, কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুর পর্যন্ত কার্পেটিং করা অংশে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। তবে রাজাপুর থেকে উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে স্থানীয়দের গরু বিচরণ করায় এবং রাস্তায় গোবর ফেলায় পিচের ওপর এক ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে, যা বৃষ্টিতে দৃশ্যমান হয়েছে। 

এছাড়া গাবখান ব্রিজের ওপরের গর্তের সমস্যাটি পুরাতন। তবে বৃষ্টি কমলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন এই কর্মকর্তা।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   বৃষ্টি  বেহাল  ঝালকাঠি  রাজাপুর  মহাসড়ক  কার্পেটিং 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: