নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচড়ী ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এবং বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার হাড়িয়ারঘোপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন— চাঁচড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজ ফকির এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা ভূমি অফিসে জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে হাড়িয়ারঘোপ গ্রামের গ্রামীণ সড়কের পাশে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৪টি মূল্যবান গাছ কাটা শুরু করেন ইউপি সদস্য মাহফুজ ফকির ও বিএনপি নেতা শিহাব ফকির।
দিনের আলোতে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়া উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে চাঁচড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পান। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে কাটা গাছের গুড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।
তবে ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাহফুজ ফকির গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে ভিন্ন যুক্তি দেখান।
তিনি বলেন, "হাড়িয়ারঘোপ গ্রামীণ সড়কের গাছ লাগানো ও পরিচর্যা সমিতির সভাপতি আমি নিজে। গাছগুলো সাম্প্রতিক ঝড়ে ভেঙে যাওয়ায় এবং অধিকাংশ মরা হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। মূলত লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্যই গাছগুলো কাটা হয়েছিল। পরে ভূমি কর্মকর্তা ফোন দিলে কাটা গাছগুলো আমি অফিসে জমা দিয়ে আসি।"
অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফকির গাছ কাটার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, "আমি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। কারা, কখন গাছ কেটেছে তা আমার জানা নেই। ফেসবুকে আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটি মহল মিথ্যা কুৎসা রটাচ্ছে। আমি এর সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই।"
কালিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড শ্রাবনী বিশ্বাস বলেন, "কেটে ফেলা গাছগুলো মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি নড়াইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এভাবে সরকারি গাছ কাটার অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে। মামলার আলামত হিসেবেই গাছগুলো আপাতত আমাদের জিম্মায় জব্দ রাখা হয়েছে।"
একই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালিয়া উপজেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ জানান, গাছ কাটার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং কাটা অংশগুলো আলামত হিসেবে প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। এই বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
সময়ের আলো/জেডি