ভোলার মনপুরা উপজেলার পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামনের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৭২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভোলা জেলা পল্লী উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক আজাদুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন ও মনপুরা উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে মো. কামরুজ্জামন বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের সদস্যদের ঋণের অর্থ, আদায়কৃত কিস্তি এবং প্রকল্পের হিসাবভুক্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ইসলামপুর, দক্ষিণ তারাগঞ্জ, মঙ্গল সিকদার, রায়চাঁদ, মধ্য তারাগঞ্জ খানবাড়ি, রহিমপুর, ধলিগৌরনগর জেবলরাজ, বগিরচর, চরকালাচাঁদ, ভাঙ্গাপুল, দক্ষিণ বালুচর এবং পূর্ব কিশোরগঞ্জ মৃধাপাড়া বিত্তিহীন মহিলা সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে মনপুরায় বদলি হওয়ার পর মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দল থেকে ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এছাড়া প্রকল্পের আয় অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৮ টাকা আত্মসাতের তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মনপুরায় ২৭ জন ব্যক্তির নামে-বেনামে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা আত্মসাতের তথ্যও উঠে এসেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসে মনপুরা থেকে বদলি হয়ে যান। তার দায়িত্বাধীন ব্লকের কিছু ঋণ এখনও অনাদায়ী থাকায় সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মনপুরা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহে আলম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) রীমা আক্তার জানান, লালমোহনে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমিতি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে