টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের আলো ফুরানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। ফলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, জরুরি ফোনকল, অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ এবং ইন্টারনেটনির্ভর নানা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গভীর নলকূপ, সাবমার্সিবল পাম্প ও পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রান্না, খাবার পানি সংগ্রহ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ফ্রিজ বন্ধ থাকায় মাছ, মাংস, দুধসহ সংরক্ষিত খাদ্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক রোগী বাড়িতে ব্যবহৃত নেবুলাইজার, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ বিদ্যুৎচালিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারছেন না। ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন। ছোট শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। উপজেলার ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকান, ফ্লেক্সিলোড ও মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট, মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, বেকারি, আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয়ের দোকান, বরফকল এবং ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের অভাবে বিকাশ, নগদ ও রকেটের অনেক এজেন্ট স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছেন না। কয়েকটি এটিএম বুথেও সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টির মধ্যে গ্রামাঞ্চলে সাপসহ বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রবের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতকানিয়া পৌরসভার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে গেছে। কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত সংস্কার করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও বিতরণ লাইনের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।
সময়ের আলো/এসএকে