কক্সবাজারের উখিয়ায় মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থান থেকে প্রায় একই আকৃতির দুটি বিপন্ন বার্মিজ অজগর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ে পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এই বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকা থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা ও আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের প্রথম বার্মিজ অজগরটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টায় উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ক্লাসাপাড়া এলাকার একটি সাধারণ বসতবাড়ি থেকেও ঠিক একই দৈর্ঘ্য ও ওজনের আরেকটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মীরা।
ক্যাম্পের সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে অজগর সাপটি ঘুরে বেড়াতে দেখে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) মোহাম্মদ আল ইমরান বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় বন বিভাগকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে উখিয়া রেঞ্জ বন বিভাগের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করে।
উখিয়া বন বিভাগের দৌছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখুঁতভাবে বার্মিজ অজগরটি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা সাপ দুটিই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে বন বিভাগের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী এগুলোকে উখিয়ার উপযুক্ত ও গভীর প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।"
মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে উখিয়ার দুটি ভিন্ন এলাকা থেকে একই আকারের দুটি অজগর উদ্ধারের পর বন বিভাগ স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শাহীনুর রহমান বলেন, "বার্মিজ অজগর মূলত একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির কারণে বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। তাই কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে কেউ আতঙ্কিত হবেন না, সেটিকে কোনো ধরনের আঘাত বা পিটিয়ে হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিন।"
এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণের সচেতনতা এবং বন বিভাগের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সময়ের আলো/জেডি