ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদিপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আরিফ মিয়া (১৯), হাসান রাকিব (২০) এবং আবু সাইম (১৮)। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়সী অন্য আসামি মারুফকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলায় আসামি পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার বদরুল আলম এবং আসামি পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন। এছাড়া মামলায় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের বাসিন্দা শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন নিছামনির পিতা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে চার আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিনজন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি। রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন,‘এই ঘটনা যে ই শুনেছে, সে ই কান্না করেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকারের কাছে দাবি জানাই, রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’
তবে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
সময়ের আলো/মহু