জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন এবং সাক্ষী মিন্টু মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দেন। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
দুই সাক্ষীর মধ্যে মিন্টু মিয়ার জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। অন্যদিকে জাকির হোসেনের মূল জবানবন্দি গ্রহণ করা হলেও তার জেরা শেষ হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম জেরার জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বাদীর অবশিষ্ট জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
শুনানির জন্য এদিন সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত ১৭ জুন একই আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক।
তিনটি মামলার এজাহারে বলা হয়, সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
সময়ের আলো/আরবিএন