হারারেতে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার বেন কারেন ৪ রানে জীবন পেয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খেলেছেন অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস।
প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে ওঠে সিরিজে টিকে থাকার লড়াই। এই ম্যাচেও টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশ শুরুতেই দারুণ বোলিং করে চাপে ফেলে জিম্বাবুয়েকে। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের ইনসুইং বলে বোল্ড হন ব্রায়ান বেনেট। নিজের পরের ওভারেই ইনোসেন্ট কাইয়াকেও ফেরান তিনি। তবে ৯ রানে তৃতীয় উইকেটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। শরীফুল ইসলামের বলে শর্ট কাভারে বেন কারেনের সহজ ক্যাচ ফেলেন তাওহীদ হৃদয়। তখন কারেনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪ রান।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়তে থাকেন কারেন। নাহিদ রানার ইয়র্কারে ক্রেগ আরভিন ৯ রান করে বিদায় নেন, আর ওয়েসলি মাধেভেরেকে ফেরান মিরাজ। এরপর সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে বিপদ কাটাতে সাহায্য করেন কারেন। রাজা ৩৩ রান করে আউট হওয়ার পর দ্রুত ক্লাইভ মাদান্দেকেও ফেরায় বাংলাদেশ।
৩৬.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান থাকা জিম্বাবুয়ে শেষদিকে আর কোনো উইকেট হারায়নি। ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটি গড়েন কারেন। ১২২ বলে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ইনিংসের শেষ দিকে স্লো ওভার রেটের কারণে অতিরিক্ত ফিল্ডিং বিধিনিষেধের সুযোগও ভালোভাবে কাজে লাগায় স্বাগতিকরা।
শেষ দুই ওভারে ২৮ রান তোলে জিম্বাবুয়ে, যার মধ্যে শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ২২ রান আদায় করেন ব্র্যাড ইভান্স। ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
কারেন ১৩৫ বলে ৯টি চারে অপরাজিত ১১১ রান করেন। ইভান্স ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন। মিরাজ ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে একটি মেডেনসহ দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া একটি করে উইকেট পান নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ