দেশের অন্যতম শীর্ষ ও খ্যাতনামা সুপারশপ ইউনিমার্টের ধানমন্ডি আউটলেট থেকে কেনা বিট লবণে কাঁকর ও বালির মিশ্রণ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই বিট লবণ মিশ্রিত সালাদ খাওয়ার সময় কাঁকরের অস্তিত্ব পেয়ে পানিতে মেশানোর পর নিচে বালির ঘন তলানি জমে থাকতে দেখেন এক ভোক্তা। এই ঘটনায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজিজুল ইসলাম নামের ভুক্তভোগী ওই ক্রেতা জানান, তিনি ইউনিমার্টের ধানমন্ডি শাখা থেকে ৬০ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ‘আলিফ বিট লবণ’ কেনেন। তবে পণ্যটির মূল প্যাকেটে ৬০ টাকা লেখা থাকলেও ইউনিমার্টের নিজস্ব বারকোড সম্বলিত ট্যাগে দাম লেখা ছিল ৮০ টাকা। সালাদ খাওয়ার সময় দাঁতের নিচে বারবার কচকচ শব্দ হলে সন্দেহবশত তিনি এক চামচ লবণ পানিতে মেশান। দীর্ঘক্ষণ নাড়ার পরও তা না গলে নিচে কাঁকর ও বালি জমা হয়ে থাকে।
এই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারের জনস্বাস্থ্য অ্যানালিস্ট ইলিয়াস জাহেদী লবণের ভিডিওটি যাচাই করে বলেন, ‘আমার যতটুকু মনে হচ্ছে, ওই বিট লবণে সমস্যা রয়েছে। বিট লবণে আয়োডিন থাকে না, তাই এটি না খাওয়াই উত্তম। তবে এতে যদি বালি মিশ্রিত থাকে, তাহলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘আলিফ করপোরেশন’ নামে মোহাম্মদপুরের ঠিকানায় বাজারজাত করা ওই প্যাকেটে উপাদানের কোনো উল্লেখ নেই এবং এর উৎস বলা হয়েছে ‘বাজার থেকে সংগৃহীত’। মোহাম্মদপুরের ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে শাহীন নামের এক কর্মকর্তা বিট লবণে বালি থাকার সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, “আমরা পুরান ঢাকা থেকে আস্ত বিট লবণ এনে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করি। কোনো কারণে বস্তার নিচের বালি হয়তো ওই প্যাকেটে চলে গেছে।” অনলাইনে বা অন্য কোথাও খাদ্যপণ্য বিপণনকারী এই কোম্পানির কোনো বৈধ তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভিন্ন মূল্যের ট্যাগ এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিমার্ট ধানমন্ডি শাখার সিআরও সনিয়া বলেন, ‘ভেন্ডরের কাছ থেকে যেকোনো পণ্য গ্রহণ করার আগে আমাদের কিউসি (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। মূল্যের ক্ষেত্রে এমন তারতম্য হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং ক্রেতা আমাদের কাছে এলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে পণ্যের মান তদারককারী সংস্থা বিএসটিআই-এর পরিচালক (মান) সাইদুল ইসলাম জানান, তারা মূলত সাধারণ খাবার লবণ নিয়ে কাজ করেন। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্সের তালিকায় বিট লবণ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা বা ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।
সময়ের আলো/জেডি