চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইতালি। তুরস্কের আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার দেশের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেন, “ইরান সংকটের শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলায় অংশ নেব না।” ইতালির এই সিদ্ধান্তকে তাদের পূর্ববর্তী স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যগামী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিজেদের সিসিলির সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিতে নামার অনুমতি দেয়নি ইতালি, যা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও মিত্রদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
এদিকে ইতালির এই যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের সমান্তরালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আমরা অশালীনতার জবাব অশালীনতা দিয়ে দিই না। আমরা কথার বদলে নির্ভীক ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজের মাধ্যমেই সব আপত্তিকর কথার জবাব দেব।”
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ সাইবার স্পেস কাউন্সিলের সদস্য এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের সাবেক প্রধান এজ্জাতুল্লাহ জারঘামি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের ‘নাগালের মধ্যেই’ ছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও আঞ্চলিক বন্ধুত্ব বজায় রাখার স্বার্থে ইরান ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।
জারঘামি তার পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প তুরস্কে সম্মেলনে বসে ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি