চীনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুন ‘মেসাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় গুয়াংজি অঞ্চলের একটি বাণিজ্যিক খামার থেকে প্রায় ৯০০টি বিষধর সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া এসব সাপের মধ্যে মারাত্মক বিষধর কোবরা বা গোখরা সাপও রয়েছে। শত শত বিষধর সাপ একসঙ্গে লোকালয়ে চলে আসায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় বাণিজ্যিক সাপের খামারটি পুরোপুরি ডুবে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, কর্দমাক্ত বন্যার পানিতে অসংখ্য কোবরা সাপ মাথা উঁচিয়ে সাঁতার কাটছে। বন্যার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিষধর এই সাপগুলো মানুষের বাড়িঘর, সিঁড়ি ও ভবনের কোনায় আশ্রয় নিচ্ছে।
বন্যার আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি জানান, নিজের ঘরের মেঝে পরিষ্কার করার সময় আকস্মিকভাবে একটি কোবরা তাকে কামড় দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাপের কামড়ে ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হ্যাংঝু পিপলস হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-ভেনম (সাপের বিষ প্রতিষেধক) মজুত রাখা হয়েছে।
এদিকে টাইফুন মেসাকের তাণ্ডবে পুরো চীনজুড়ে ঝড়, টর্নেডো ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। গত সোমবার গুয়াংজি অঞ্চলের দুটি বাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়জন মারা গেছেন এবং ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গানসু প্রদেশে একটি বড় ভূমিধসের ঘটনায় ২১ জন এবং হুবেই প্রদেশে শক্তিশালী টর্নেডো ও বজ্রঝড়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের বিশেষ দল পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সাপ দেখলে কেউ যেন নিজে তা ধরার চেষ্টা না করেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে এবং চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি