নতুন করে তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর রাতের আঁধারে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে পড়ার শঙ্কাও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত সিরিক ও বন্দর আব্বাসসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হামলার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, আগের দিন ইরানের জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে তেহরান সতর্ক করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ইরানের উপকূলীয় শহর কোনারাক ও চাবাহারেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণ হয়েছে। পাশাপাশি সিরিক ও জাস্ক বন্দরে দুটি করে এবং আবু মুসা দ্বীপেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
হামলার পর বন্দর আব্বাসে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও জানা না গেলেও ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি ব্যারাকে আগুন লেগেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও