খামেনিকে মাশহাদে দাফন, লাখো মানুষের বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার জন্মস্থান মাশহাদ শহরে শিয়া মুসলিমদের ইমাম রেজার মাজারে

2026-07-10T01:42:45+00:00
2026-07-10T01:42:45+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
খামেনিকে মাশহাদে দাফন, লাখো মানুষের বিদায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১:৪২ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার জন্মস্থান মাশহাদ শহরে শিয়া মুসলিমদের ইমাম রেজার মাজারে বৃহস্পতিবার তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। ইতিমধ্যে ইরাক থেকে উড়োজাহাজে করে তার মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে দাফনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। মরদেহের কফিন আসার অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় জনতা স্লোগান দেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্তের কসম, ট্রাম্প, আমরা তোমাকে মেরেই ছাড়ব।’

খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই মাশহাদ শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় তেহরানের সঙ্গে শহরটির ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় মাশহাদগামী রেলপথটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরে যখন লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে, ঠিক তখনই এই কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন আঘাত পুরো প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এর আগে গত এক সপ্তাহে খামেনি এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের অন্য চার সদস্যের মরদেহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন নগরীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তেহরান, কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালার প্রতিটি জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। শিয়া ধর্মীয় শোকগাথা এবং বিপ্লবী স্লোগানে মুখর ছিল এসব অনুষ্ঠান।

তবে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তীব্র সামরিক হামলা মোকাবিলা করে টিকে থাকলেও ইরান এখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে। একই সঙ্গে প্রায় ৩৭ বছর ধরে দেশ শাসন করা আলি খামেনির রেখে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও দেশটির ভেতরে তীব্র মতভেদ ও বিতর্ক রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। এ সময় তিনি কয়েকটি লিখিত বিবৃতি দিলেও তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি।

হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। তেহরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনও জনসমক্ষে আসার মতো অবস্থায় নেই। পাশাপাশি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও তার জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখার চেষ্টা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাকে এ পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি বাবা ও স্ত্রীর জানাজায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

সময়েল আলো/আআ



  বিষয়:   খামেনি  দাফন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: