অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের সংঘাত আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় উভয়পক্ষই ড্রোন ও

2026-07-10T03:29:27+00:00
2026-07-10T03:29:27+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের সংঘাত আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় উভয়পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিলে দুই দেশ একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই উদ্যোগ বা শান্তিচুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক হামলা ইরানের সামুদ্রিক রুটে হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারেনি। যদিও সর্বশেষ হামলাগুলোর তীব্রতা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় কিছুটা কম, তবু শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের সাবেক গোয়েন্দা কেন্দ্রের পরিচালক কার্ল শুস্টার বলেন, যুদ্ধবিরতির টিকে থাকার সম্ভাবনা শুরু থেকেই খুব কম ছিল। কারণ যে ইরানি সরকার সমঝোতায় সই করেছে, তাদের ওপর দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেই।

তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে বাহিনীটির আগ্রহ খুবই সীমিত।
অপরদিকে ইরান যুদ্ধ থেকে সহজে বেরও হতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সামনে এখন সংঘাত নিরসনের ভালো কোনো বিকল্প নেই। ভেস্তে গেছে দুই পক্ষের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও।

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে সম্প্রতি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এ ঘটনার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিটি এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গত বুধবার ইরানে আবারও হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি সইয়ের তিন সপ্তাহ পার না হতেই শুরু হলো এ নতুন সংঘাত ও উত্তেজনা। ফলে ট্রাম্পের জন্য ইরান যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ল। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাও এখন বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের সামনে এখন খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই। যেসব পথ খোলা আছে, তার প্রায় সবই ঝুঁকিপূর্ণ।

পাল্টাপাল্টি হামলা ছাড়া বড় কোনো সংঘাত হলে আবারও পুরোদমে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। যদিও গতকাল ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ উত্তেজনা শিগগিরই শেষ হবে। তবে নতুন হামলার কারণে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন সামান্য পিছু হটলেও ইরান সেই সুযোগ কাজে লাগাবে।তারা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে যখন-তখন নিজেদের আধিপত্য প্রদর্শন করার সুযোগ পাবে।

ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন, বোমা মেরে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যাবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করাই ছিল তার এ যুদ্ধের মূল লক্ষ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যেভাবে চাইছেন, ইরান সেভাবে বড় কোনো ছাড় দেবে না।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প এখন নিজেকে একটি বাক্সে (ফাঁদের) বন্দি করে ফেলেছেন। সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো পথেই এখন ইরানের কাছ থেকে ট্রাম্পের বেশি কিছু অর্জন  করার সম্ভাবনা নেই।’ এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী নির্বাচন। এর আগেই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও অনেক কমে গেছে। গত ২৩ জুনের রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সর্বনিম্ন। ফলে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আশা ফিকে হয়ে আসছে। চলতি সপ্তাহে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল। সম্মেলনে ট্রাম্প অংশ নিয়েছেন।

গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এ যুদ্ধ শুরু করেছিল।

সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় নেওয়া হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ বিশ্লেষকের মতে, এ সময়ের মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান আসবে। কারণ সমঝোতা স্মারকে জটিল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আলোচনায় এ পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমনকি পরের ধাপের আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   অনিশ্চয়তা  যুক্তরাষ্ট্র  ইরান  শান্তিচুক্তি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: