র্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দুই দিক থেকেই মরক্কোর তুলনায় এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। মাঠের খেলাতেও সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিফলন দেখা গেছে। যদিও প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস এবং একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সেই শঙ্কা দূর করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসিরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বোস্টনে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। প্রথম ২০ মিনিটেই একাধিক আক্রমণে মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা। তবে গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও সতীর্থরা গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না।
২৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ফ্রান্স। পেনাল্টি বক্সে এমবাপ্পেকে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি।
আরও পড়ুন
কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। তার নেওয়া দুর্বল শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন বোনো। এরপর ৩৬ মিনিটে দেজিরে দুয়ের জোরালো শটও প্রতিহত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষদিকে লুকাস দিনিয়ের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৬০তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দুর্দান্ত শটে জালে বল পাঠান এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সমানেও পৌঁছে যান তিনি।
গোলের মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপ্পের দৌড়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে এগিয়ে গিয়ে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি।
৭৭তম মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ দেশম। এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় ফ্রান্স, যদিও আর কোনো গোল আসেনি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
সময়ের আলো/আরবিএন