উন্নয়নের মুখোশের আড়ালে নগর পরিকল্পনার গভীর সংকট

হাবিবুর রহমান সাগর, জাবি প্রতিনিধি

বিবিধ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্রই নয়, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন কোটি মানুষের জীবনযাত্রা এই

2026-07-10T13:14:31+00:00
2026-07-10T13:15:41+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
রাজধানীর জলাবদ্ধতা
উন্নয়নের মুখোশের আড়ালে নগর পরিকল্পনার গভীর সংকট
হাবিবুর রহমান সাগর, জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ পিএম  আপডেট: ১০.০৭.২০২৬ ১:১৫ পিএম
সময়ের আলোর ফাইল ছবি
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্রই নয়, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন কোটি মানুষের জীবনযাত্রা এই শহরকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বর্ষা এলেই এই রাজধানীর প্রকৃত চিত্র যেন পাল্টে যায়। সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, ফুটপাত, আবাসিক এলাকা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমে থাকা পানি শুধু মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করে না, বরং একটি আধুনিক রাজধানীর সক্ষমতা ও পরিকল্পনার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দেয়।

ঢাকার জলাবদ্ধতা এখন আর মৌসুমি দুর্ভোগের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, দায়িত্বহীনতা এবং দুর্বল প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, সমস্যার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

রাজধানীর মানুষ প্রতি বছর একই প্রশ্ন করেন, একটু বৃষ্টি হলেই কেন ঢাকা অচল হয়ে পড়ে? অথচ এই প্রশ্নের উত্তর আজ নতুন নয়। কোথায় পানি জমে, কোন খাল দখল হয়েছে, কোন ড্রেন অকেজো, কোথায় পাম্পিং স্টেশনের প্রয়োজন, কোন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল—এসব তথ্য বহুদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাগজে-কলমে পরিকল্পনা থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ খুবই সীমিত।


জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। একসময় ঢাকার চারপাশে অসংখ্য খাল, বিল, জলাশয় ও নিচু এলাকা ছিল, যা প্রাকৃতিকভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণ করত। কিন্তু নগর সম্প্রসারণের নামে এসব জলাধার ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে গেছে। আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা অবৈধ দখলের কারণে পানি ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে।

এ ছাড়া বহু খাল সংকুচিত হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও খালের ওপর স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ কিংবা বক্স কালভার্ট তৈরির ফলে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একসময় যে খালগুলো শহরের পানি নদীতে নিয়ে যেত, সেগুলো এখন কার্যত মৃত। ফলে বৃষ্টি হলেই পানি আটকে থাকে শহরের বুকেই।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা আরেকটি বড় কারণ। বহু এলাকায় ড্রেনের ধারণক্ষমতা বর্তমান জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপের তুলনায় অনেক কম। অনেক ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। প্লাস্টিক, পলিথিন, নির্মাণবর্জ্য এবং গৃহস্থালি আবর্জনায় ড্রেন ভরে যায়। পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেও তা উপচে পড়ে সড়কে।

এখানে শুধু কর্তৃপক্ষকে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নাগরিকদেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, ড্রেনে প্লাস্টিক ও বর্জ্য নিক্ষেপ করা, খাল ও জলাশয় দখলে নীরব সমর্থন দেওয়া—এসব আচরণও জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। একটি শহরকে বাসযোগ্য রাখতে যেমন দক্ষ প্রশাসন প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীল নাগরিকও অপরিহার্য।

ঢাকার জলাবদ্ধতা শুধু চলাচলের সমস্যা সৃষ্টি করে না, এর বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কর্মজীবী মানুষ অফিসে পৌঁছাতে পারেন না। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে সমস্যায় পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হয়। নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো জনস্বাস্থ্য। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নোংরা পানি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা মানে উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার অপচয়। জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার, পণ্যের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একটি রাজধানীর অকার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দেয়।

ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একসময় ওয়াসার অধীনে থাকলেও পরবর্তীতে তা দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর করলেই দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তৈরি হয় না। প্রয়োজন ছিল দক্ষ প্রকৌশলী, প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সমন্বিত ডেটাবেইস এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো। বাস্তবে এসবের ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। ফলে দায়িত্ব বদলেছে, কিন্তু দুর্ভোগের চিত্র বদলায়নি।

ঢাকার জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা। রাজধানীকে ঘিরে কাজ করে একাধিক সংস্থা—দুই সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, একটি সংস্থা রাস্তা নির্মাণের পর অন্য সংস্থা তা খুঁড়ে ফেলে। কোথাও ড্রেন তৈরি হয়, কিন্তু আউটলেট থাকে না। কোথাও খাল সংস্কার হয়, কিন্তু দখলমুক্ত করা হয় না। এই সমন্বয়হীনতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি বা ক্লাউডবার্স্ট ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। অতীতের বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে তৈরি করা ড্রেনেজ ব্যবস্থা বর্তমান বাস্তবতায় যথেষ্ট নয়। তাই নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু সহনশীল নগরপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশ্বের অনেক দেশ একই ধরনের সমস্যার সফল সমাধান করেছে। তারা জলাধার সংরক্ষণ, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং, পারমিয়েবল পেভমেন্ট, আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার, স্মার্ট ড্রেনেজ মনিটরিং এবং আধুনিক পাম্পিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান গ্রহণ করা সম্ভব।

সবচেয়ে আগে প্রয়োজন রাজধানীর সব খাল ও জলাশয়কে দখলমুক্ত করা। যেসব খাল এখনও টিকে আছে, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো জলাধার ভরাট হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানকে সময়োপযোগী করে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। কোন প্রকল্প কতদূর এগিয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কবে শেষ হবে—এসব তথ্য জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যেসব এলাকায় নিয়মিত পানি জমে, সেখানে বিশেষ নজর দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের লাইন সম্পূর্ণ আলাদা করতে হবে। এতে জলাবদ্ধতা যেমন কমবে, তেমনি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।


ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কারের কাজকে মৌসুমি কর্মসূচি না বানিয়ে বছরব্যাপী কার্যক্রমে পরিণত করতে হবে। বর্ষা শুরুর ঠিক আগে তড়িঘড়ি অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ না হলে ড্রেন পরিষ্কার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

একটি আধুনিক রাজধানীর পরিচয় শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দিয়ে হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, বর্ষার পানি কয়েক ঘণ্টা নয়, কয়েক মিনিটের মধ্যে নিষ্কাশিত হয় এবং নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন থাকে। ঢাকা সেই মানদণ্ডে এখনও অনেক পিছিয়ে।

আজ প্রয়োজন দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক নগর শাসন প্রতিষ্ঠা করা। জলাবদ্ধতাকে ভাগ্যের লিখন হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ। এটি সমাধানযোগ্য একটি প্রকৌশলগত ও প্রশাসনিক সমস্যা। প্রয়োজন কেবল সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, দক্ষ বাস্তবায়ন এবং অবিচল রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

রাজধানীর মানুষ নিয়মিত কর দেন, বিভিন্ন সেবার জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেন। বিনিময়ে তারা একটি নিরাপদ, সচল ও বাসযোগ্য শহর প্রত্যাশা করেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। উন্নয়নের স্লোগান তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যখন বর্ষার এক পশলা বৃষ্টিতে রাজধানী থমকে দাঁড়াবে না।

ঢাকার জলাবদ্ধতা কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়, এটি মানুষের সৃষ্টি করা সংকট, যার সমাধানও মানুষের হাতেই। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে আগামী প্রজন্ম একটি জলজটমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত রাজধানী পেতে পারে। কিন্তু যদি আজও দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের ঢাকা আরও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হবে। তাই এখনই সময় কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ করার— রাজধানীকে সত্যিকার অর্থেই একটি আধুনিক, সহনশীল ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   উন্নয়ন  নগর পরিকল্পনা  গভীর সংকট  রাজধানী  জলাবদ্ধতা 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: