নবীজি (সা.)-এর পবিত্র সংস্পর্শে গড়ে ওঠা সাহাবিগণ হলেন মানবজাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম প্রজন্ম। তারা ইসলামকে কেবল বিশ্বাসই করেননি; বরং নিজেদের জীবন, সম্পদ, মেধা ও সর্বস্ব দিয়ে ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। সাহাবিদের মর্যাদা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে’ (সুরা আত-তওবা : ১০০)।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি তাঁদের মতো ঈমান আনো, তবে তোমরা সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে’ (সুরা আল-বাকারা : ১৩৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও ঘোষণা করেছেন, ‘সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের মানুষ; এরপর তাদের পরবর্তী যুগ; তারপর তাদের পরবর্তী যুগ’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। এই আয়াত ও হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরাম ঈমান, তাকওয়া ও আমলের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
সাহাবায়ে কেরামের জীবন অধ্যয়ন করা কেবল ইতিহাস পাঠ নয়; বরং আত্মিক শুদ্ধি ও ঈমানি চেতনা বৃদ্ধির এক কার্যকর মাধ্যম। সাহাবিদের জীবন ঈমানের বাস্তব নমুনা। তাঁদের জীবন অধ্যয়ন করলে আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস, রাসুল (সা.)-এর প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং ইসলামের প্রতি দায়িত্ববোধ নতুন করে জাগ্রত হয়। পবিত্র কুরআন তাঁদের জীবদ্দশায় নাজিল হয়েছে। তাঁরা রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে এর ব্যাখ্যা ও বাস্তব প্রয়োগ সরাসরি শিখেছেন। তাই কুরআন-সুন্নাহ সঠিকভাবে বোঝার জন্য সাহাবিদের জীবন ও তাঁদের বর্ণিত ব্যাখ্যাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সাহাবিগণ অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সম্পদ, পরিবার ও প্রাণের চেয়ে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা আমাদের জীবনকেও ত্যাগী হতে শেখায়। সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার মতো মহৎ গুণগুলো তাঁদের জীবনে অনন্য উচ্চতায় ছিল। তাঁদের আদর্শ অনুসরণে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন আরও সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান ফিতনা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে সঠিক পথ খুঁজে পেতে সাহাবিদের জীবন আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে।
ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, হজরত আবু বকর (রা.)-এর অকৃত্রিম ত্যাগ, হজরত ওমর (রা.)-এর সুবিচার, হজরত উসমান (রা.)-এর দানশীলতা এবং হজরত আলি (রা.)-এর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। এ ছাড়া মুহাজির ও আনসারদের ভ্রাতৃত্বের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার সাহাবিদের গালি দিও না’ (সহিহ বুখারি)। তাই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং তাঁদের সম্পর্কে যেকোনো নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব।
পরিশেষে বলা যায়, সাহাবায়ে কেরামের জীবন কুরআন-সুন্নাহর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তাঁদের জীবনী অধ্যয়ন এবং আদর্শ অনুসরণ আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি ও সফলতা অর্জনে পথ দেখাবে। আসুন, আমরা তাঁদের জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি।
সময়ের আলো/এসএকে