আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনে সঠিকভাবে চলার জন্য কিছু বিধান ও নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসব বিধান পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কারণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও সম্মানের ব্যাপারে ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে। নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলাম তাকে উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করেছে। বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের নির্ধারিত অংশ রয়েছে। অর্থাৎ তাদের মৃত্যুর পর কিংবা জীবদ্দশায় রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর মেয়ের বৈধ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই অধিকার খর্ব করা বা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের আদেশ করেন একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান।’
এ ছাড়া সুরা আন-নিসার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ রয়েছে এবং নারীদের অংশ রয়েছে, সে সম্পদ হোক অল্প বা বেশি।’
আবার সুরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে নারীদের অধিকার জোরপূর্বক দখল করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের তাদের বৈধ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি এমন অপপ্রচারও সমাজে বিদ্যমান থাকে, ‘মেয়েরা বাবার সম্পত্তির অংশ নিলে জীবনে উন্নতি হয় না।’
এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইসলামবিরোধী। মেয়ে নিজের প্রাপ্য অধিকার চাইতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে তাকে ‘লোভী’ তকমা বহন করতে হয়। ‘অংশ নিলে ধ্বংস অনিবার্য’ এমন ভুল ধারণাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে অনেক মেয়েকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। অথচ এর মাধ্যমে শুধু কন্যা বা বোনের অধিকারই ক্ষুণ্ন করা হয় না, বরং আল্লাহ প্রদত্ত বিধানকেও অস্বীকার করা হয়, যা অত্যন্ত গর্হিত ও গুনাহের কাজ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের সম্পত্তি বা সম্পদ তার উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো অধিকার কেড়ে নেবে, কেয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে এবং আল্লাহ তার বিচার করবেন’ (বুখারি হাদিস : ২৪০৫)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নারীর বাবার বা স্বামীর উত্তরাধিকারের অধিকার কেড়ে নেয়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন।’
ইসলাম নারীদের আর্থিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনে নিজেদের নিরাপত্তা ও জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল প্রথার কারণে অনেক নারী আজও তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আল্লাহ তায়ালা বান্দার হক লুণ্ঠনকারীকে ক্ষমা করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না ওই বান্দা ক্ষমা করে। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই এই সাময়িক জীবনের মোহে পড়ে অন্যের অধিকার নষ্ট না করে আল্লাহর বিধান মেনে চলাই আমাদের কর্তব্য। তবেই দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জীবনই শান্তিময় ও কল্যাণময় হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সময়ের আলো/এসএকে