পৃথিবীতে মানুষের জীবনের একমাত্র নিশ্চিত সত্য হলো মৃত্যু। ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান বা সাধারণ, কেউই এ বাস্তবতা থেকে মুক্ত নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই তার কাছেই ফিরে যাবে। তাই একজন মুমিনের জন্য মৃত্যুকে ভয়ের বিষয় না ভেবে পরকালের প্রস্তুতির স্মারক হিসেবে দেখা উচিত।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। সুরা মুলকে তিনি বলেন, মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য, কে সবচেয়ে উত্তম আমল করে, তা দেখার জন্য। দুনিয়ার জীবন তাই একটি পরীক্ষার ময়দান, আর পরকাল সেই পরীক্ষার ফল লাভের স্থান।
পরকালের প্রস্তুতির জন্য নিচের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. ফরজ ইবাদত ও নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া
পরকালের সফলতার প্রথম শর্ত ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা। সময়মতো নামাজ পড়া, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির এবং হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা একজন মুসলিমের জীবনের ভিত্তি। একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন আনার চেয়ে ধীরে ধীরে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। দানশীলতা, ধৈর্য, সত্যবাদিতা ও উত্তম আচরণের মতো গুণাবলি মানুষকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়।
২. সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গ
মানুষ তার সঙ্গের দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত হয়। ভালো বন্ধু নেক কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, ইবাদতে অনুপ্রাণিত করে এবং ভুল থেকে ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে খারাপ সঙ্গ ধীরে ধীরে গুনাহের পথে নিয়ে যায়। যেমন, কথায় আছে, সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। তাই ঈমান ও চরিত্র রক্ষার জন্য বন্ধু নির্বাচনে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই জীবনের মূল লক্ষ্য করা
একজন মুমিনের প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তার প্রতি ভালোবাসা, রহমতের আশা এবং শাস্তির ভয়, এই তিনটি অনুভূতির ভারসাম্য মানুষকে সঠিক পথে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে। দুনিয়ার জীবন তো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরকালের জীবন অনন্তকালের। তাই প্রতিটি দিনকে মূল্যবান মনে করে বেশি বেশি নেক আমল করা এবং মৃত্যুর আগেই পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মৃত্যুর সময় সম্পর্কে কেউ জানে না। তাই পরকালের প্রস্তুতি শুরু করার সর্বোত্তম সময় আজই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নেক আমলের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জন করার এবং পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সময়ের আলো/এসএকে