বিএনপি অতীতে সব গণ-অভ্যুত্থান থেকে সুবিধা নিলেও ক্ষমতায় এসেই জনগণের দাবির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস মূলত প্রতারণার ইতিহাস।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসে পরে তা অস্বীকার করে। যার খেসারত হিসেবে বিগত ১৬ বছর তাদের এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই রাজপথে ধুঁকে ধুঁকে নির্যাতিত হতে হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ গণভোট, সংস্কার এবং জুলাই সনদের কারণে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। অথচ এখন তারা সেই গণভোটের রায়, ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং গণতন্ত্রের সঙ্গেই নতুন করে প্রতারণা করছে।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ আবার হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশ সঠিকভাবে চালাতে হলে অবিলম্বে গণভোটের রায় ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, ‘যদি সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন প্রতিরোধ করতে না পারেন, তবে নিজেদের দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলে দিন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদের দেশপ্রেমিক দেখাবেন অথচ সীমান্ত রক্ষা করতে পারবেন না, তা হবে না।’
সংসদ ও রাজপথ— সবখানেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান তিনি।
সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা গতকাল এক সাক্ষাৎকারে শুনতে পেলাম, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দড়িতে আপনাকে ঝুলতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার ৮০০ বছরের ইতিহাসে লক্ষ্মণ সেনের পর তিনি দ্বিতীয় শাসক, যিনি কাপুরুষের মতো দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যে একবার পালিয়ে যায়, সে আর কখনো ফেরত আসতে পারে না।’
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ১১ দলের বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সময়ের আলো/জেডি