আমরা সবকিছু সতর্কতার সঙ্গে পাহারা দিচ্ছি

রফিক রাফি

জাতীয়

পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সরকার ও দলে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি সময়ের

2026-07-12T02:27:31+00:00
2026-07-12T02:27:31+00:00
 
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সাক্ষাৎকারে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
আমরা সবকিছু সতর্কতার সঙ্গে পাহারা দিচ্ছি
রফিক রাফি
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২:২৭ এএম 
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি : সংগৃহীত
পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সরকার ও দলে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ  বাস্তবায়ন এবং ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন নিয়ে। আলাপে ওঠে এসেছে খাল খনন কর্মসূচি, বন্যা, নদী খননে দুর্নীতি, দলের কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।


সময়ের আলো : তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
পানি সম্পদমন্ত্রী : তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এটা দৃশ্যমান। এই প্রকল্পের কোনো পূর্ণাঙ্গ স্টাডি আগে ছিল না, এ জন্য ইমিডিয়েট কাজ শুরু করা যাবে না। বর্তমানে আমাদের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। চায়না ও নেদারল্যান্ডসের টিমের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে। স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কবে নাগাদ চুক্তি নবায়ন হতে পারে?
বাংলাদেশ ও ভারত- উভয় দেশের ‘যৌথ নদী কমিশন’ এই চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। দুই দেশের কমিটিগুলো নিয়মিত নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু এই বছরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাই সরকার আশা করছে খুব দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এটি নবায়ন করা সম্ভব হবে। 

পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
পদ্মা ব্যারেজ আমাদের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন। এটা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একনেকে নতুন প্রকল্প পাস হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব।

বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এর অগ্রগতি কতটুকু?
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দূরদর্শী চিন্তা থেকে এই জনপ্রিয় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। এর পেছনে মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল- একটি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং অন্যটি কৃষিতে আমূল পরিবর্তন বা বিপ্লব নিয়ে আসা। মূলত এই গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিপ্লবই রাষ্ট্রপতি জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমরা আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনর্খননের একটি বিশাল লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি।
 
খালের কাটা মাটি ফেলা নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
বিষয়টি না জানার কারণে সমালোচনা হচ্ছে। মাটি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এখানে উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন এবং পানি সম্পদ, কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীরা এর সদস্য হিসেবে কাজ করেন। খালের বাড়তি মাটি সবার আগে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এরপর মাটি উদ্বৃত্ত থাকলে তা সাধারণ মানুষের জন্য নামমাত্র মূল্যে নিলামে বিক্রি করা হবে। মাটি জমিয়ে রাখা বা অন্যত্র ফেলার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী বা খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
এখন সরকারি উদ্যোগে আবার খাল খনন শুরু হয়েছে, তাই যারা খালের জায়গা দখল করে আছেন, তাদের নিজ দায়িত্বেই সরে যেতে হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি দখল না ছাড়েন, তবে জোর-জবরদস্তি না করে স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে সেই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রতি বছর বন্যা মোকাবিলা করার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, তারপরও সেভাবে মোকাবিলা করা যায় না কেন?
বাংলাদেশ একটি ভাটির দেশ। উজান থেকে আসা পানি আমাদের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। খাল খনন না থাকায় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে প্রচুর পানি জমে বন্যা দেখা দেয়। দ্রুত খাল খনন করলে এই পানি সহজে নেমে যাবে। পানি নিষ্কাশন ঠিক থাকলে বন্যার বড় সমস্যা আর হবে না। 

নদী খনন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এটা ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি নেবেন কি না?
গত ১৭ বছরে দেশের সব খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার হয়েছে। আমরা মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। শুধু ‘জিরো টলারেন্স’ মুখে না বলে আমরা পুরো বিভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছি। আমরা সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গে পাহারা দিচ্ছি। 

অনেকেই বলছেন দেশে এখন রাজনীতি নেই বললেই চলে, বিএনপি এবং সরকার কি একাকার হয়ে গেছে?
একটি দেশ চালানোর জন্য রাজনীতি সবচেয়ে বড় বিষয়। সংগঠন শক্তিশালী করতে নিয়মিত মিটিং ও আলোচনা চলছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা- সব পর্যায়ে আমরা শক্ত হাতে কাজ করছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো প্রার্থী দিচ্ছে, আপনাদের পরিকল্পনা কী?
স্থানীয় সরকার বিল সবাই আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের ৩১ দফার ভিত্তিতেও তো আমরা বলেছি যে দলীয়ভিত্তিক কোনো প্রার্থী অথবা নির্বাচন যেন না হয়। এটাতে তো সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। অথচ বিরোধী দল সারা দেশের প্রত্যেকটা ইউনিয়ন উপজেলায়, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থিতা ঘোষণা করছে। বিরোধী দল কমিটমেন্ট থেকে সরে গেছে। কিন্তু বিএনপি এমন কিছু এখনও করেনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বিগত আন্দোলনে আমাদের সক্রিয় ভূমিকা সবাই দেখেছে। গত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা চরম অত্যাচার সহ্য করেছেন। অনেক নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। অনেকে জেল খেটেছেন। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে এর নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একই পরিবার থেকে ৩ জন সরকারপ্রধান- এটা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
খালেদা জিয়া নির্যাতিত ও কারাবন্দি ছিলেন। মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় তার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। তার ত্যাগ ও সংগ্রামী নেতৃত্ব চিরস্মরণীয়। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বীরত্বের সঙ্গে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অসামান্য অবদানেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনই দেশের বড় নেতৃত্বে এসেছেন। এটি মূলত তাদের জনবান্ধব রাজনীতির একটি বড় সাফল্য। 


বিএনপির মিডিয়া সেল নিয়ে পরিকল্পনা কী?
সময়ের চাহিদানুয়ায়ী কিছুটা পুনর্গঠন করতে হবে। মিডিয়া সেলকে রি-অর্গানাইজ করব। 

সরকারের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এটা দেশবাসী খুবই পজিটিভলি নিয়েছেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

এই চার মাসে আপনার মন্ত্রণালয়ের সাফল্যে কী মনে করছেন আপনি?
আমি এখন এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাই না। আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের কাজের বিচার দেশবাসীই করবেন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   সতর্কতা  পাহারা  সাক্ষাৎকার  পানি সম্পদমন্ত্রী  শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: