বিশ্বমঞ্চে সুপারনোভাদের ঝলক

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি নতুন নক্ষত্রের জন্ম দেওয়ারও সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি আসরেই কিছু তরুণ ফুটবলার এমনভাবে নিজেদের

2026-07-12T04:20:26+00:00
2026-07-12T04:20:26+00:00
 
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
খেলা
বিশ্বমঞ্চে সুপারনোভাদের ঝলক
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি নতুন নক্ষত্রের জন্ম দেওয়ারও সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রতি আসরেই কিছু তরুণ ফুটবলার এমনভাবে নিজেদের মেলে ধরেন যে, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই তারা বিশ্ব ফুটবলের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেন। ২০২৬ বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে কিংবা হ্যারি কেইনের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি এবার আলো কেড়ে নিয়েছেন একঝাঁক নবাগত, যারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই প্রমাণ করেছেন আগামী দিনের ফুটবল তাদের হাত ধরেই এগোবে।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার। চলতি বিশ্বকাপে তার ঝুলিতে রয়েছে একটি গোল। তবে শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট দিয়ে ইয়ামালকে বিচার করলে ভুল হবে। মাঠে তার উপস্থিতি, ডান প্রান্তে দুর্দান্ত গতি, চোখধাঁধানো ড্রিবলিং, নিখুঁত ক্রস এবং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্যই বলে দেয় তিনি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর মানসিক শক্তিও তার রয়েছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ইতিমধ্যেই তাকে আগামী এক দশকের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখছেন।

ফ্রান্সের দেজিরে দুয়েও প্রথম বিশ্বকাপেই নিজের সামর্থ্যরে পূর্ণ পরিচয় দিয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে কিংবা মাইকেল ওলিসের মতো তারকাদের পাশে খেলেও তিনি আলাদা করে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তার দ্রুত গতি, সৃজনশীলতা, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতা এবং আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা ফ্রান্সকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি। চলতি বিশ্বকাপে তার একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট রয়েছে। বড় ম্যাচে তার আত্মবিশ্বাস ছিল একজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের মতো।

সুইজারল্যান্ডের জোহান মানজাম্বি হয়তো খুব বেশি শিরোনামে আসেননি, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে পরিণত তরুণ মিডফিল্ডারদের একজন ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি মাঝমাঠে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, দ্রুত বল বিতরণ, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা তাকে সুইস দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। বিশ্বকাপের চাপ তার খেলায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। এই বিশ্বকাপে তিনি তিনটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন।

আলজেরিয়ার ইব্রাহিম মাজাও এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আবিষ্কার। আক্রমণভাগে তার গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং সৃজনশীল পাস প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার সমস্যায় ফেলেছে। আলজেরিয়া শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বের বাধা পেরোতে না পারলেও মাজা নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করার সামর্থ্য রাখেন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহও তার প্রতি বাড়ছে।

মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সি বিস্ময়দের একজন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম একাদশে নেমে তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। বয়সে ছোট হলেও খেলায় তার আত্মবিশ্বাস ছিল অসাধারণ। সাহসী ড্রিবলিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা তাকে মেক্সিকোর ভবিষ্যতের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি এই বিশ্বকাপে নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মাঝমাঠে তার পরিণত ফুটবল, নিখুঁত পাসিং এবং চাপের মধ্যে শান্ত থাকার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের। আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে তিনি মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিটি ম্যাচে তার কর্মক্ষমতা, বল দখলে রাখার দক্ষতা এবং খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রমাণ করেছে, মরক্কো ভবিষ্যতের জন্য একজন অসাধারণ মিডফিল্ডার পেয়ে গেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে আধুনিক ফুটবলে বয়স নয়; প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। 

ইয়ামাল, দুয়ে, মানজাম্বি, মাজা, মোরা এবং বুয়াদ্দি শুধু কয়েকটি ভালো ম্যাচ খেলেননি; তারা নিজেদের দেশের ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। হয়তো কয়েক বছর পর বিশ্বের সেরা ফুটবলারের তালিকায় এই নামগুলোর একাধিককে দেখা যাবে।

যেমন একসময় বিশ্বকাপ 
পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিল পেলে, মাইকেল ওয়েন, টমাস মুলার, হামেশ রদ্রিগেজ এবং কিলিয়ান এমবাপের মতো নতুন নায়ক; তেমনি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও হয়তো ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই নতুন প্রজন্মের বিস্ময় বালকদের জন্য। বিশ্বমঞ্চে তাদের দুর্দান্ত অভিষেক যেন একটাই বার্তা দিচ্ছে- ফুটবলের নতুন যুগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বিশ্বমঞ্চ  সুপারনোভাদ  ঝলক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: