মা অন্তরালের সুপারস্টার

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

শেষ বাঁশি বাজে, গ্যালারি গর্জে ওঠে। টেলিভিশনের ক্যামেরা ছুটে যায় গোলদাতার মুখের দিকে। কেউ উল্লাসে দুই হাত আকাশে তোলে, কেউ

2026-07-12T04:24:04+00:00
2026-07-12T04:24:04+00:00
 
  রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
খেলা
মা অন্তরালের সুপারস্টার
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
শেষ বাঁশি বাজে, গ্যালারি গর্জে ওঠে। টেলিভিশনের ক্যামেরা ছুটে যায় গোলদাতার মুখের দিকে। কেউ উল্লাসে দুই হাত আকাশে তোলে, কেউ সতীর্থদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সেই মুহূর্তে পৃথিবীর কোথাও একজন মা নিশ্চুপ বসে চোখের জল মুছে নেন। কারণ তিনি জানেন, এই একটি মুহূর্তের পেছনে লুকিয়ে আছে বছরের পর বছর ত্যাগ, দুশ্চিন্তা, প্রার্থনা আর নির্ঘুম রাতের গল্প। সেই গল্পগুলো কখনো স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না, তবু প্রতিটি সাফল্যের ভিত্তি হয়ে থাকে নীরবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আলোয় আজ আলোচিত লামিন ইয়ামাল, ফাবিয়ান রুইস, উসমান দেম্বেলে এবং আশরাফ হাকিমির মতো ফুটবলারদের নাম। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের সাফল্যের পেছনে আছে একেকজন সংগ্রামী মায়ের গল্প, যারা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

খুব ছোট বয়সেই লামিন ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর মা শেইলা এবানা ছেলের বেড়ে ওঠার দায়িত্বের বড় অংশ নিজের কাঁধে তুলে নেন। সীমিত সামর্থ্য, একা সংসার আর প্রতিদিনের সংগ্রামের মধ্যেও তিনি কখনো ইয়ামালকে অনুভব করতে দেননি যে তার স্বপ্ন থেমে যেতে পারে। বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় সুযোগ পাওয়ার আগের কঠিন দিনগুলোতে অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া, পড়াশোনার ভারসাম্য রাখা এবং প্রতিটি ব্যর্থতার পর নতুন করে সাহস দেওয়া। 

সবকিছুতেই তিনি ছিলেন ছেলের সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ ২০২৬ বিশ্বকাপে ইয়ামালের প্রতিটি ড্রিবল, গোল আর অ্যাসিস্টের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে একজন মায়ের দীর্ঘ লড়াই।

ফ্রান্সের তারকা উসমান দেম্বেলের গল্পও কম অনুপ্রেরণার নয়। শৈশবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব সচ্ছল ছিল না। তার মা ফাতিমাতা দেম্বেলে ছেলেকে ফুটবলার বানানোর স্বপ্নে কখনো ক্লান্ত হননি। নিয়মিত অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া, শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা এবং কঠিন সময়েও পাশে থাকা- সবকিছুই করেছেন নীরবে। 

দেম্বেলে একাধিকবার বলেছেন, তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে মায়ের পরামর্শ ও বিশ্বাস কাজ করেছে। মাঠে তার গতি আর সৃজনশীলতার পেছনে তাই আছে এক মায়ের অবিচল আস্থা। মরক্কোর আশরাফ হাকিমির গল্প বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায়। তার বাবা ছিলেন রাস্তার ফেরিওয়ালা, আর মা সাফিয়া মৌহ গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সংসারের চাকা ঘোরাতে দুজনকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সেই কষ্টের মধ্যেও তারা কখনো ছেলের স্বপ্নকে থামতে দেননি। 


হাকিমি বহুবার বলেছেন, তার বাবা-মা নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনকে হারানোর পর গ্যালারিতে উঠে মাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার সেই দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন। সেটি ছিল শুধু একটি জয়ের উদযাপন নয়, বরং একজন মায়ের ত্যাগের প্রতি সন্তানের নীরব শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে স্পেনের মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইসের বেড়ে ওঠার গল্পও সংগ্রামের। আন্দালুসিয়ার ছোট্ট শহরে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কেটেছে তার শৈশব। মা চ্যারি রুইস ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে কখনো হাল ছাড়েননি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় করা, অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া এবং ব্যর্থতার দিনগুলোতে সাহস জোগানো। সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা। 

ফাবিয়ান বহুবার বলেছেন, তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক তার মা। পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও বিনয়ের শিক্ষা তিনি পেয়েছেন তার কাছ থেকেই। আজ বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠে তার পরিণত ফুটবল সেই শিক্ষারই প্রতিফলন। ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের খেলা নয়। এটি অসংখ্য অদেখা মানুষের ত্যাগের গল্প। একজন খেলোয়াড় যখন বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের জার্সি গায়ে চাপান, তখন তার সঙ্গে মাঠে নেমে আসে শৈশবের প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি প্রার্থনা এবং পরিবারের অগণিত আত্মত্যাগ।

বিশ্বকাপ শেষ হবে, নতুন চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, নতুন রেকর্ড লেখা হবে। কিন্তু কিছু গল্প কখনো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। ইয়ামালের প্রতিটি ড্রিবল, দেম্বেলের প্রতিটি দৌড়, হাকিমির প্রতিটি স্প্রিন্ট কিংবা রুইসের প্রতিটি নিখুঁত পাসে তাই নীরবে জড়িয়ে থাকে তাদের মায়েদের দীর্ঘ সংগ্রাম। ফুটবল ইতিহাস হয়তো গোল, অ্যাসিস্ট আর ট্রফির হিসাবই মনে রাখবে, কিন্তু এই তারকাদের জীবনের সবচেয়ে বড় জয় এসেছিল অনেক আগেই। 

যেদিন তাদের মায়েরা প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে সন্তানের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে নিয়েছিলেন। সেই কারণেই বিশ্বকাপের প্রতিটি উল্লাসের আড়ালে, অদৃশ্য নায়কের আসনে আজও সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকেন তারা। এই সংগ্রামী মায়েরাই।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   মা  অন্তরাল  সুপারস্টার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: