রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার পালোপাড়া গোরস্তানের পাশে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুতের পোল (খুঁটি) ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনো প্রকার সরকারি ভাউচার বা রশিদ ছাড়াই ৩২ হাজার টাকায় বিষয়টি রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম ও ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। পুরো টাকাটাই কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে বলে দাবি স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের।
গত শনিবার ভোর ৫টার সময় পুঠিয়া পৌরসভার পালোপাড়া গোরস্তানের পাশে কাটাখালি এলাকার ইউনুস আলীর একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ব্যাক করার সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পোলটি ভেঙে মাটিতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভোর সকালে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকটি আটকে রেখে পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুতের টেকনিক্যাল টিম ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
ঘটনাস্থলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও ড্রাম ট্রাক মালিকপক্ষের মধ্যে শুরু হয় প্রকাশ্য দর-কষাকষি। নতুন পোল বসানো ও বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৬৭ হাজার টাকা দাবি করে। ট্রাক মালিকপক্ষ এত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দর-কষাকষির একপর্যায়ে তা কমে ৪৭ হাজার টাকায় এসে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে ড্রাম ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী উপস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) আসাদকে প্রস্তাব দেন, আমাদের কোনো ভাউচার বা রশিদ দেওয়ার দরকার নেই, আপনারা আপনাদের মতো করে কাজ করে দেন।
এই প্রস্তাবের পর ইঞ্জিনিয়ার আসাদ তাদের ডিজিএম-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি ভাউচার বা রশিদ ছাড়াই মাত্র ৩২ হাজার টাকায় রফাদফা হয় এবং নতুন পোল বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা জমা না দিয়ে পুরো ৩২ হাজার টাকাই ডিজিএম ও ইঞ্জিনিয়ার আসাদ নিজেদের পকেটে পুরেছেন।
জানতে চাইলে ড্রাম ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভোরবেলা একটা বিপদে পড়েছিলাম। সে সময় তারা (পল্লী বিদ্যুৎ) ৩২ হাজার টাকা নিয়ে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
৬৭ হাজার টাকার সরকারি ক্ষতি কীভাবে মাত্র ৩২ হাজার টাকায় রফাদফা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, ডিজিএম স্যারের কাছে আমার এক বড় ভাই সুপারিশ করেছিলেন। সেই কারণে কোনো ভাউচার ছাড়াই ডিজিএম স্যার ৩২ হাজার টাকায় কাজটি করে দিতে রাজি হন।
অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) আসাদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমি কাজটি করে দিয়েছি ঠিক আছে, কিন্তু সব নির্দেশ দিয়েছেন ডিজিএম স্যার। ডিজিএম স্যারের নির্দেশের বাইরে আমি কোনো কিছু করিনি। এই বিষয়ে যা জানার ডিজিএম স্যারের কাছ থেকেই জানুন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুৎ (নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীনে) জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহাদৎ হোসেন বলেন, শনিবার অফিস বন্ধ থাকার কারণে আমরা রশিদ দিতে পারেনি। তবে পোল যারা ভেঙেছে, তাদের ৬৭ হাজার টাকা দেওয়ার সমর্থ না থাকার কারণে ৩২ হাজার টাকায় কাজটি করে দিয়েছি।
সরকারি পোল ভাঙার ক্ষতিপূরণের টাকা ভাউচার ছাড়া পকেটে নেওয়ার এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই