মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।
কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।
অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক। কমিটিকে মাঠ পর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকিতে যুক্ত থাকবে। এ ছাড়া এই কমিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করতে কাজ করবে।
একই সঙ্গে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। বিশেষ ‘পর্ষদ’ আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।
গঠিত এই কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই)। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তী সময়ে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি