জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে গতিশীল করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিবর্তন করা উচিত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পৌনে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতকে গতিশীল করতে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— এই চারজনকেই পরিবর্তন করা উচিত।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে আরেকটি পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, আজকের সংসদে যে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং হতাশার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ শহিদ হয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার জাতির সামনে এসেছিল, আজকের এই সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও লেখেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি, জনগণের প্রত্যাশা এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের আলোকে একটি নতুন সাংবিধানিক কাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে, পুরোনো ব্যবস্থার ভেতরেই সীমাবদ্ধ একটি সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সংকুচিত করার একটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র সংস্কার, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ এই কমিটির সদস্য হয়েছেন। বিশেষ করে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের এই সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত। জনগণ তাদের কাছ থেকে আপসহীন সংস্কারক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেছিল। ক্ষমতার অংশীদার হওয়া কখনোই জনগণের সঙ্গে করা রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে সরে আসার কারণ হতে পারে না।
তিনি লেখেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের সংকট কেবল কয়েকটি ধারা বা অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান হবে না। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য, ক্ষমতার জবাবদিহি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, মৌলিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতাসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামো নিয়ে জনগণের অংশগ্রহণে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, সে কারণেই আমরা এই সংবিধান সংশোধনী কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছি এবং সরকারকে অবিলম্বে একটি সংবিধান সংস্কার বা রিফর্ম অ্যাসেম্বলি গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। সেই অ্যাসেম্বলিতে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কোনো আনুষ্ঠানিক স্মরণে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়, সেই আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান হবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
তিনি আরও লেখেন, আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, জনগণের প্রত্যাশা, জুলাই সনদের অঙ্গীকার এবং গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখান। সীমিত সংশোধনের পথ পরিহার করে জনগণের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করুন। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে জনগণের সঙ্গে নয়, জনগণের পক্ষেই দাঁড়ান।
সময়ের আলো/আআ