ঐক্যের পথে জাতীয় পার্টি

এম মামুন হোসেন

রাজনীতি

দীর্ঘদিনের ভাঙন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর আবারও ঐক্যের পথে হাঁটছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে দলটি পুনর্গঠনের

2026-07-13T01:51:00+00:00
2026-07-13T01:51:45+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
ঐক্যের পথে জাতীয় পার্টি
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৫১ এএম  আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ১:৫১ এএম
জাতীয় পার্টির লোগো। ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের ভাঙন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর আবারও ঐক্যের পথে হাঁটছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে দলটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দল ছেড়ে যাওয়া কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ফিরে এসেছেন। 

তবে একসময় দলের শীর্ষ সারির গুরুত্বপূর্ণ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, রুহুল আমিন হাওলাদার ও কাজী ফিরোজ রশিদের প্রত্যাবর্তন এখনও নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাংগঠনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন জাতীয় পার্টির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় দীর্ঘদিন পর কয়েকজন সাবেক নেতা অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য এ টি ইউ তাজ রহমান, আরিফ, জাকির হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন। দলীয় নেতৃত্ব এটিকে পুনর্মিলনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে। তবে দল ভাঙনে নেতৃত্ব দেওয়া শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিতে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দেয়। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ফলে নির্বাচনের আগেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে ভোটের মাঠেও। প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী দিলেও দলটি একটি আসনও জিততে পারেনি। এমনকি কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি।

একসময় দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পর তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির অবস্থান ছিল দৃঢ়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলটি ৩৫টি আসন এবং প্রায় ১২ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৯৬ সালে ৩২টি আসন পেলেও ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ শতাংশে। ২০০১ সালে আসন কমে ১৪ হলেও দলটি জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ২০০৮ সালে আবার ২৮টি আসন পেয়ে জাতীয় পার্টি সংসদে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রাখে। 

তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতি জাতীয় পার্টির ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলে। সংসদে বিরোধী দলের আসনে থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কমতে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কৌশল স্বল্পমেয়াদে কিছু সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় দুর্বল করে দেয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রংপুর অঞ্চলে, যা দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। 


জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং লাঙ্গল প্রতীকের আবেগ ওই অঞ্চলে দলটির শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কিন্তু সর্বশেষ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় হন। এই ফলাফল শুধু একটি আসনের পরাজয় নয়, বরং জাতীয় পার্টির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের ক্ষয়েরও প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি গঠন করেন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার পতনের পরও দলটি টিকে ছিল এবং সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় পার্টি আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সখ্য, সাংগঠনিক দুর্বলতা, ধারাবাহিক নেতৃত্বসংকট, কর্মী বাহিনীর ক্ষয় এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারানো। অনেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। ফলে সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় নেই।

দলের ভেতরেও এমন মূল্যায়ন রয়েছে যে, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনগুলো বৈধতা দেওয়ার কারণে জাতীয় পার্টি সাধারণ ভোটারের আস্থা হারিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান থেকেও শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি সুবিধা পায়নি। ফলে একদিকে সরকারবিরোধী ভোটারদের সমর্থন হারিয়েছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের ভোটও নিজেদের পক্ষে টানতে পারেনি।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সময়ের আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে অভিমানী অনেক নেতা ফিরে এসেছেন এবং প্রেসিডিয়াম সভায় অংশ নিয়েছেন। আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, তারাও ফিরে আসবেন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   ঐক্য  জাতীয় পার্টি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: