প্রায় দুই মাস পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি দলীয় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমান। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মূলত সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তাকে একটি ক্রেস্টও উপহার দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যও বৈঠকে উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অধিকাংশ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এজন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা ও স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কয়েকজন সদস্য এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও মতবিনিময় করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখননের মতো কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।
বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানাবেন।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহের সোমবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দল ক্ষমতায় আসার পর এ ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটে। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।
সময়ের আলো/আরবিএন