জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাবনা জেলা বিএনপি।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার লিখিত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পাবনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে তাদের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের পাবনায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হবে।
গত ৯ জুলাই এনসিপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার পাবনা সদর এবং চাটমোহর উপজেলায় রাজনৈতিক সফরে আসেন। সফরটি অঘোষিত হলেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে পাবনা জেলা বিএনপি এবং ২০২৪-এর গণআন্দোলনের বিভিন্ন শরিক সংগঠন তাদের স্বাগত জানায়। এমনকি এনসিপির কর্মসূচি যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় পুলিশ সুপারকেও বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল।ৎ
বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সম্মান, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও এনসিপি নেতারা চরম রাজনৈতিক দেউলিয়া ও উগ্রতার পরিচয় দিয়েছেন। পাবনা সদর ও চাটমোহরের জনসভায় তারা বিএনপি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পাবনার গণমানুষের নেতা অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে অত্যন্ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা মূলত শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে পাবনাবাসীর কাছে একজন অবিসংবাদিত ও মানবিক নেতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এই নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো সহজ হতে পারে, কিন্তু পাবনার মানুষের মন থেকে তার অবদান মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই পাবনায় এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ’ চলাকালে এবং পাবনার বাইরের একটি সমাবেশে সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেন— জুলাই আন্দোলনে পাবনায় দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবু সাইদ খানকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন শিমুল বিশ্বাস। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে দেওয়া অন্যান্য কিছু বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, অনতিবিলম্বে এই অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং পাবনার মানুষের আবেগ ও হৃদয়ে আঘাত দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, ভবিষ্যতে পাবনার মাটিতে যেকোনো সভা-সমাবেশে এই দুই নেতাকে গণমানুষের পক্ষ থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবু ওবায়দা তুহিন, আনিসুল হক বাবু, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান এবং জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী পূর্ণিমা ইসলামসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই