ওমানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।
এনডিটিভি ভারত সরকারের এক কর্মকর্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তেলবাহী জাহাজে হামলার প্রতিবাদ জানাতে ইরানি কূটনীতিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। তাকে কী জানানো হয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট, তবে বৈঠকটি শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরে ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিধ্বস্ত হয়। এর মধ্যে মোম্বাসায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। এর মধ্যে ছয়জনই ভারতীয় নাগরিক।
ওমানের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় এমটি আল বাহিয়াহ এবং এমটি মোমবাসা নামের দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল ব্যাহত করার মতো সহিংস কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
ভারত আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে আবারও হামলা ও সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অঞ্চলটির শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও বাধাহীন নৌচলাচল ও বাণিজ্য দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মাসে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সেত্তেবেলো-তে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ