বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা এখনও অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সর্বশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের ২১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। অথচ ফুটবল মাঠে নিজেদের এই অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের বিপরীতে সুদূর লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোর জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে অন্ধ উন্মাদনা আর মৃত্যুর মিছিলে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ স্থানটি দখল করে রেখেছে বাংলাদেশ।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল যখন কড়া নাড়ছে, তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ২০ জন ভক্তের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশের।
যদিও ফিফা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানান, বিশ্বকাপের মূল স্টেডিয়ামগুলোর ভেতরের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং সেখানে কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মুলত মাঠের বাইরের এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে অতিরিক্ত ভিড়, পাড়া-মহল্লায় সমর্থকদের মধ্যে উগ্র সংঘর্ষ, পতাকা ওড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা এবং খেলা দেখার চরম উত্তেজনার সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে।
এদিকে, খেলার যোগ্যতা অর্জন না করেও কেবল অন্ধ সমর্থনের জের ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের কড়া সমর্থকগোষ্ঠী ও চিরবৈরী ফুটবল দলগুলোর মধ্যকার মানসিক দ্বন্দ্ব অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
শুধু শরিফুলই নন, ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে অকালমৃত্যুর এই তালিকা দিন দিন দীর্ঘই হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বহুতল ভবন থেকে পড়ে কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন তিনজন। আবার প্রিয় দলের খেলা দেখার সময় বা পরাজয়ের ক্ষোভে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন এবং কুষ্টিয়ায় ব্রাজিলের বিদায়ের পর এক ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ