খেলার আনন্দ যেন অপরাধের হাতিয়ার না হয়

সম্পাদকীয়

মতামত

বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের বিনোদন ও উদ‌যাপনের উপলক্ষ বয়ে এনেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই উন্মাদনাকে পুঁজি করে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বিস্তৃত হয়েছে অনলাইন

2026-07-15T06:16:39+00:00
2026-07-15T06:17:30+00:00
 
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
মতামত
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে অনলাইন জুয়া
খেলার আনন্দ যেন অপরাধের হাতিয়ার না হয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৬ এএম  আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ৬:১৭ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের বিনোদন ও উদ‌যাপনের উপলক্ষ বয়ে এনেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই উন্মাদনাকে পুঁজি করে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বিস্তৃত হয়েছে অনলাইন জুয়া ও স্পোর্টস বেটিংয়ের অবৈধ বাজার। খেলা দেখার নামে ভুয়া লিংক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার এবং সার্চ ইঞ্জিনের অপব্যবহারের মাধ্যমে দর্শকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জুয়ার প্ল্যাটফর্মে। এ কারণে অনেকে টাকা-পয়সা খোয়াচ্ছেন। ব্যক্তিগত তথ্যও বেহাত হচ্ছে।

বিশ্বকাপে এবার অংশ নিয়েছে ৪৮টি দেশ। যে কারণে এবারের আসরে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। বৈধ বাজি বা অবৈধ অনলাইন জুয়ার সুযোগও বেড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, শুধু বৈধ বাজারেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজি ধরা হতে পারে। যা গত আসরের চেয়ে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। অবৈধ বাজারের পরিমাণ আরও বড় বলে ধারণা করা হয়। 

দেশে সরকার ১ জুলাই থেকে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর করেছে। একই সময়ে সিআইডি ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ২ হাজার ২২১টি ব্যাংক হিসাব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে বিটিআরসি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ২৫৫টি জুয়ার সাইট, ৫৯৪টি জুয়াসংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং ৪৮৬টি আইপিটিভি বন্ধ করেছে। 

এতে বোঝা যায় যে, সমস্যা কতটা বিস্তৃত হয়েছে। অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্ক। একটি ওয়েবসাইট বন্ধ হলে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ডোমেইন, মিরর সাইট, ভিপিএন কিংবা ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে একই কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শর্ট লিংক, ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে। 

এ অবস্থায় নতুন আইন প্রণয়নকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলতেই হবে। দীর্ঘদিনের পুরোনো আইনের পরিবর্তে অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, ভিপিএন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারকে আইনের আওতায় আনা সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে আইন কঠোর হলেই যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে তা নয়। আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। মামলা হলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। 

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে পুঁজি করে চলা অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বহুমাত্রিক কৌশল অবলম্বন করা দরকার। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। যেসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সেগুলো বন্ধ করতে হবে। জুয়ার টাকা লেনদেনের পথও রুদ্ধ করা দরকার। 

মোবাইল আর্থিক সেবা, ব্যাংকিং চ্যানেল ও সন্দেহজনক ডিজিটাল লেনদেনের ওপর কার্যকর নজরদারি চালানোর বিকল্প নেই। জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রতারণামূলক লিংক দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় থাকতে হবে। অনলাইন জুয়ার বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও জরুরি।

খেলাধুলা মানুষের নির্মল বিনোদনের মাধ্যম; মানুষে মানুষে সংযোগও তৈরি করে। খেলাকে অবৈধ জুয়ার হাতিয়ারে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করলে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াই সফল হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি



  বিষয়:   খেলার আনন্দ  অপরাধ  হাতিয়ার 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: