রাষ্ট্রের নিয়োগনীতি : চাই আস্থা ও যোগ্যতার ভারসাম্য

শুভ কিবরিয়া

মতামত

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়; বরং এটি প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক পালাবদলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

2026-07-13T22:29:51+00:00
2026-07-13T22:52:07+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
মতামত
রাষ্ট্রের নিয়োগনীতি : চাই আস্থা ও যোগ্যতার ভারসাম্য
শুভ কিবরিয়া
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম  আপডেট: ১৩.০৭.২০২৬ ১০:৫২ পিএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়; বরং এটি প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক পালাবদলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কমিশন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, কূটনৈতিক মিশন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। এসব নিয়োগকে ঘিরে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে-রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক আস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আর যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত সক্ষমতার স্থান কোথায়?

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রশ্নটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বঞ্চনার পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ফলে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, দক্ষ এবং বঞ্চিত নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকে পদোন্নতি, নিয়োগ কিংবা পেশাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই বাস্তবতায় নতুন সরকার তাদের একটি অংশকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চাইবে- এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক প্রতিফলন।

কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ নয়। একটি দল তার অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিচালনায় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় বিবেচনার পরিধি অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নাগরিকের জীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়োগের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক আনুগত্যের নয়; এটি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জন-আস্থার প্রশ্ন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে- কোন উপাদান একটি রাষ্ট্রকে কার্যকর করে তোলে? অধিকাংশ গবেষণাই দেখায়, রাষ্ট্রের সাফল্য কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে তার রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ওপর। অর্থাৎ একটি রাষ্ট্র কতটা দক্ষতার সঙ্গে আইন প্রয়োগ, জনসেবা প্রদান, নীতি বাস্তবায়ন, কর আহরণ এবং সংকট মোকাবিলা করতে পারে- এসবের সমষ্টিই তার সক্ষমতার প্রকৃত পরিমাপ। আর এই সক্ষমতার ভিত্তি গড়ে ওঠে দক্ষ, সৎ ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে।

এই কারণেই আধুনিক জনপ্রশাসনের অন্যতম ভিত্তি মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা। ম্যাক্স ওয়েবারের আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা থেকে শুরু করে সমকালীন জনপ্রশাসনের আলোচনায় একটি বিষয় সর্বজনস্বীকৃত- রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান; ব্যক্তিগত আনুগত্য নয়, পেশাগত যোগ্যতা এবং ইচ্ছাধীন সিদ্ধান্ত নয়, প্রতিষ্ঠিত বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ডই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি। কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে যায়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, রাজনৈতিক আস্থার কোনো গুরুত্ব নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার স্বাভাবিকভাবেই এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে চাইবে, যাদের ওপর তার রাজনৈতিক আস্থা রয়েছে। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস অপরিহার্য। কিন্তু সেই আস্থার সঙ্গে যদি প্রমাণিত দক্ষতা, নৈতিক সততা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা যুক্ত না থাকে, তবে সেই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত সরকার ও রাষ্ট্র- উভয়ের জন্যই দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এখানেই পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক নিয়োগ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি বাস্তবতা; কিন্তু যখন সেটিই একমাত্র নিয়োগের মানদণ্ডে পরিণত হয়, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপরীতে, রাজনৈতিকভাবে আস্থাভাজন এবং একই সঙ্গে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা গেলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সক্ষমতার মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রীয় নিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি। একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা শুধু বর্তমান নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং সাংগঠনিক জ্ঞানের ওপরও নির্ভরশীল। প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় পুনর্গঠিত হয়, তবে এই প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়, নীতির স্থায়িত্ব ক্ষুণ্ণ হয় এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতাও কমে যায়।

সুশাসনের ধারণাও এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, দক্ষতা, কার্যকারিতা এবং জনস্বার্থে দায়বদ্ধতা- এসবই সুশাসনের মৌলিক উপাদান। রাষ্ট্রীয় নিয়োগের মান এসব উপাদানের প্রায় প্রতিটির ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। অযোগ্য বা পক্ষপাতদুষ্ট নেতৃত্বের মাধ্যমে দক্ষ প্রশাসন কিংবা কার্যকর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশীয় উদ্যোক্তারা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বানুমানযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেন। একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক সংস্থা, দক্ষ স্থানীয় সরকার, পেশাদার কূটনৈতিক কাঠামো কিংবা শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে একযোগে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় পুনর্মিলনের মতো জটিল দায়িত্বও সরকারের সামনে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য নেতৃত্ব।

রাষ্ট্রীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিক নেতৃত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অপরিহার্য, কিন্তু একা যথেষ্ট নয়। একজন দক্ষ অথচ দুর্নীতিগ্রস্ত বা পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি যেমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করতে পারেন, তেমনি সৎ কিন্তু অদক্ষ নেতৃত্বও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সততা, নৈতিক দৃঢ়তা, স্বাধীন বিচারবোধ এবং জনস্বার্থে দায়বদ্ধতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও একই শিক্ষা দেয়। যেসব দেশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, পেশাদার প্রশাসন এবং কঠোর জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা অটুট থেকেছে। বিপরীতে, যেখানে নিয়োগব্যবস্থা প্রধানত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জনআস্থা কমেছে এবং বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিহিত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিয়োগকে যদি কেবল রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে দেখা হয়, তবে তার রাজনৈতিক মূল্যও শেষ পর্যন্ত সরকারকেই দিতে হয়। একটি ব্যর্থ প্রকল্প, দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা, অকার্যকর বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দায় শেষ পর্যন্ত জনগণ সরকারের ওপরই বর্তায়।

তাই প্রয়োজন এমন একটি নিয়োগনীতি, যেখানে রাজনৈতিক আস্থা ও যোগ্যতা পরস্পরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। রাজনৈতিকভাবে আস্থাভাজন হওয়া একটি ইতিবাচক বিবেচ্য বিষয় হতে পারে; কিন্তু সেটি কখনোই প্রমাণিত পেশাগত যোগ্যতা, নৈতিক সততা কিংবা নেতৃত্বের সক্ষমতার বিকল্প হতে পারে না। একই ভাবে কেবল কারিগরি দক্ষতাও যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারও অপরিহার্য।

রাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এটি সব নাগরিকের। সরকার পরিবর্তিত হয়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে। তাই আজকের নিয়োগনীতি আগামী দিনের রাষ্ট্রের সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। বিচক্ষণ সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়োগকে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উপায় হিসেবে নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করবে।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার সাফল্য নির্ভর করে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নয়; বরং সেই নেতৃত্ব যাদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সততা, দক্ষতা, স্বাধীন বিচারবোধ এবং জনকল্যাণে অঙ্গীকারের ওপর। রাজনৈতিক আস্থা প্রয়োজনীয়, কিন্তু রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে যোগ্যতা। আর এই দুইয়ের সুষম সমন্বয়ই একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। 

*মতামত লেখকের নিজস্ব

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 






  বিষয়:   রাষ্ট্র  নিয়োগনীতি  আস্থা  যোগ্যতা  ভারসাম্য 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: