জনসংখ্যা নয়, জনসম্পদ গড়ার সময়

এস ডি সুব্রত

মতামত

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা। অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি করছে। প্রতি বছরই

2026-07-11T10:45:46+00:00
2026-07-11T10:45:46+00:00
 
  শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
মতামত
আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
জনসংখ্যা নয়, জনসম্পদ গড়ার সময়
এস ডি সুব্রত
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা। অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি করছে। প্রতি বছরই একটি প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। 

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ সালের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’। 

জনসংখ্যা পরিবর্তন, প্রজনন অধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বিশ্বজুড়ে ১১ জুলাই এই দিবস পালন করে । বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস প্রতি বছর ১১ জুলাই তারিখে পালিত একটি সাংবার্ষিক আয়োজন, যার লক্ষ্য বিশ্ব জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের ওপরে জনসচেতনতা বাড়ানো। ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই তারিখে বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে গেলে সারা বিশ্বের জনমানুষের মধ্যে যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়, তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পরিষদ এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো। বর্তমানে বিশ্বে মোট জনসংখ্যা ৮৩০ কোটি ছাড়িয়েছে। জনসংখ্যা বাড়ার গড় হার প্রায় ১.১ শতাংশ। 

বৈশ্বিক জনসংখ্যার এই চিত্রে শীর্ষ জনবহুল দেশগুলো হলো ভারত : ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ, চীন ১৪০ কোটি ৪৯ লাখ, যুক্তরাষ্ট্র : ৩৪ কোটি ৯০ লাখ, ইন্দোনেশিয়া : ২৮ কোটি ৭৮ লাখ, পাকিস্তান : ২৫ কোটি ৯২ লাখ। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এশিয়ায় বাস করে, যার মধ্যে চীন ও ভারত মিলেই বিশ্বের ৩৬ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ১৭ শতাংশ জনসংখ্যার সঙ্গে আফ্রিকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল অঞ্চল। ইউরোপে ১০ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৮ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ৫ শতাংশ এবং ওশেনিয়ায় ০.৫ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। 

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈশ্বিক জনসংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৯৭০ থেকে ৯৮০ কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান দফতর ইউএস সেনসাস ব্যুরো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছিল। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে বিশ্ববাসীকে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ প্রজন্ম, সক্ষম দম্পতি, তাদের ছোট পরিবার গঠন, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্যসেবা, বাল্যবিয়ে না হওয়া, সহিংসতা, বৈষম্য ও মানবাধিকার নিয়ে প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে নানা সচেতনতামূলক বিভিন্ন কাজ করে আসছে। 

কাক্সিক্ষত পর্যায়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তারা নানা ধরনের কাজ করে থাকে। এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্বে প্রতি ১০ থেকে ১৫ বছরে ১০০ কোটি জনসংখ্যা বাড়ছে। এমন বৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হয়েছে ১৯৮৭ সাল থেকে। তখন বিশ্বে জনসংখ্যা ছিল ৫০০ কোটি। জনসংখ্যা বাড়ার এ প্রবণতায় ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্ব জনসংখ্যার যে চিত্রটি দাঁড়াবে, তা হিসাব করে জনমিতিবিদরা উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন হয়তো একটা পৃথিবীতে এত মানুষের তখন সংকুলান হবে না। প্রয়োজন হবে আরও তিনটি পৃথিবীর। তা হলে পৃথিবীর অষ্টম জনবহুল বাংলাদেশের কী অবস্থা দাঁড়াবে ২০৫০ সালে! 

বলা হচ্ছে, শত সহস্র বছর লেগেছিল বিশ্বে ১০০ কোটি মানুষ হতে। পরবর্তী ২০০ বছরে বা তারও বেশি সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ৭ গুণ। এরপর ১৯৮৭ সালে বিশ্বে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০ কোটি, ১৯৯৭ সালে ৬০০ কোটি, ২০১১ সালে ৭০০ কোটি, ২০২১ সালে ৭৯০ কোটি, ২০৩০ সালে হবে ৮৫০ কোটি, ২০৫০ সালে বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটিতে, আর ২১০০ সালে হবে ১ হাজার ৯০ কোটি। বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ৯টি দেশে : ভারত, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, আমেরিকা, উগান্ডা, ইন্দোনেশিয়া। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই ভারত হয়ে গেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জন-অধ্যুষিত দেশ, যা চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বর্ধনশীল দেশ হলো নাইজেরিয়া। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যেখানে প্রতি মিনিটে ২৫০ শিশুর জন্ম হয়। বিশ্বে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৭ থেকে ৭১ বছর। ২০৪৫-২০৫০ সালে এ গড় আয়ু দাঁড়াবে ৭৭ বছরে। ২০৯৫-২১০০ সালে সম্ভাব্য গড় আয়ু হবে ৮৩ বছর। 

এ পরিপ্রেক্ষিতে ষাট দশক থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনমিতিক সূচকের ব্যাপক অগ্রগতি প্রশংসনীয় : জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১.৩৭ শতাংশ, পরিবারপ্রতি গড় সন্তান ২.০৪, মাতৃমৃত্যু ১.৬৩ (প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে), নবজাতকের মৃত্যু ০-২৮ দিন ১৫ জন (প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে), ০-১ বছরের শিশুমৃত্যু ১১ জন (প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে), ০-৫ বছরের শিশুমৃত্যু ২৮ জন (প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে), পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৬৩.৯ শতাংশ, অপূর্ণ চাহিদা হ্রাস ১২ শতাংশ। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২.৮ বছর। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ৬৬ শতাংশ (১০ কোটি ৫৬ লাখ, ইউএনডিপি)। 

পাশাপাশি পুষ্টি কার্যক্রম, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, অটিজম সেবা ও পরামর্শের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এবং মা-শিশু স্বাস্থ্যে অর্জিত সূচক-সাফল্য রক্ষা করতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ৫৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের তৃণমূল পর্যায়ের লব্ধ জ্ঞান-অভিজ্ঞতায় ঘর থেকে ঘরে, ওয়ার্ড থেকে কমিউনিটিতে, সমতল থেকে দুর্গম জনপদে মানবিক ‘মেন্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিক জনসংখ্যার কারণে মানুষ-প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয়বাষ্প, ওজোন, ক্লোরো-ফ্লুরো কার্বনের অতিরিক্ত ব্যবহারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতাজনিত দুর্যোগের অনিবার্য শিকার হয়ে তীব্র দাবদাহ, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

এ দেশের মানুষ, কৃষিজমি, সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরঘেঁষা অঞ্চল, মালদ্বীপ, নিউইয়র্ক, লন্ডন, সিউল, টোকিওসহ বহু উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রে তলিয়ে যাবে; আবার পৃথিবীপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিতে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে জলে ভাসবে মানুষ। আর কোটি কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হবে এবং অকালে অনাহারে, নিরাশ্রয়ী হয়ে ও দুর্ভিক্ষে মৃত্যুবরণ করবে। বাড়বে মানুষের দেশান্তরী হওয়া। বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ের কবলে পড়বে  সারা পৃথিবী। এ অবনতিশীল বৈশ্বিক বিপর্যয় রুখতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে প্রতি বছর ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নানা স্তরের মানুষকে সচেতন করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা হলো পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ছোট পরিবার গড়তে হবে। 

পরিবারে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধ করে সমতা সম্মান মানবাধিকারের মাধ্যমে নারী, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন বিধান করতে হবে। বাল্যবিয়ে ও অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ কমাতে হবে। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা, ইরান ইসরাইল যুদ্ধ, জলবায়ু-প্রকৃতির অসহিষ্ণু অবস্থা মোকাবিলায় মানুষ নিরন্তর সংগ্রাম করছে। একটি দেশের মূল অবকাঠামো হচ্ছে জনসংখ্যা। যদিও বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া এক ধরনের আতঙ্কের খবর। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা  ১৭,৭৮,১৮,০৪৪।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো : ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। বর্তমানে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ১,৩৬৬ জন। 

দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেড়ে হয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছর। বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। এখানে জনসংখ্যা বাড়ার হার ১.৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত ১০০.২:১০০। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ কর্মক্ষম। আর দেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ প্রজন্ম। দেশের ক্রমবর্ধমান নিরবচ্ছিন্ন জনসংখ্যার জন্য কঠোর আইন তৈরি করা, সব রাজনৈতিক দলকে বর্ণ, ধর্ম এবং সম্প্রদায় থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে এবং জাতীয় স্বার্থে একটি কঠোর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে হবে। জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ ও অভিশাপ দুটোই হতে পারে। যখনই দেশের সম্পদ দেশের জনগণের তুলনায় অপ্রতুল হয়ে যায়, তখনই দেশে জনসংখ‌্যার বিস্ফোরণ হয় এবং এই বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করা অতীব জরুরি হয়ে পড়ে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হলে প্রথমে তাদের জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণ জানতে হবে। 

প্রথমত সমাজে বাল্যবিয়ে, বহুবিবাহ, ছেলেসন্তানের লোভে অধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার মতো কুসংস্কার রয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এ ছাড়া কুসংস্কারের বিভিন্ন বেড়াজাল যে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, তার অন্যতম কারণ অশিক্ষা বা কার্যকরী শিক্ষার অভাব। যখন দেশের মানুষের গড় আয়ু কম হয় এবং শিশু মৃত্যুর হার বেশি হয়, তখনও দেশের জনগণ অধিক সন্তানের প্রতি আগ্রহী হয়। দরিদ্রতার হার বেশি আর নারীর মতামতের প্রাধান্য না থাকাও জনসংখ্যা বিস্ফোরণে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। 

একটি দেশে জনসংখ্যার ওপর সে দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি, উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান, সামাজিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন দিক জড়িত থাকে। উন্নত দেশে জনসংখ্যা কম হওয়ায় মাথাপিছু আয়ও বেশি। সরকারের নারী শিক্ষা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তা ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধে আইনের সঠিক প্রয়োগ আরও নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি জনগণকে সচেতন করতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাল্যবিয়ের কুফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কেননা বাল্যবিয়ে রোধ করতে পারলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ অনেকটা সহজ হবে। তবে জনসংখ্যা কখনোই সমস্যা নয়, এটি হলো সম্পদ। কেননা জনসংখ্যাই হতে পারে জনসম্পদ। তাই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কবি ও প্রাবন্ধিক
মতামত লেখকের নিজস্ব


  বিষয়:   এস ডি সুব্রত  বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: