শখের প্রাণী, প্রকৃতির বিপদ

ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

মতামত

সম্প্রতি রাজধানী মিরপুরের রূপনগরে অভিযান চালিয়ে বিদেশি ট্যারান্টুলা মাকড়সা ও ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ হাজার ১০৪টি

2026-07-10T05:43:59+00:00
2026-07-10T05:43:59+00:00
 
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
মতামত
শখের প্রাণী, প্রকৃতির বিপদ
ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সম্প্রতি রাজধানী মিরপুরের রূপনগরে অভিযান চালিয়ে বিদেশি ট্যারান্টুলা মাকড়সা ও ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ হাজার ১০৪টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এক তথ্য মতে, এক হাজারের বেশি প্রাণী উদ্ধার করা হলেও এখান থেকে পাঁচ হাজার বিদেশি প্রাণী উদ্ধার হওয়ার আগেই বিক্রি হয়েছে। এসব বিক্রি হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে সাপ, মাকড়সা, ব্যাঙ ও কচ্ছপ। অনেকের মতে, মানুষ শখের বশে বিদেশি প্রাণী কিনছেন। লালন-পালন করছেন। কিন্তু শখের বশে কেনা প্রাণীগুলো যদি আমাদের বাস্তুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে কী হবে? 

এলিয়েন স্পেসিস হলো একটি বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশকারী নতুন প্রজাতি। স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতি ধ্বংসের মুখে পড়ে এসব এলিয়েন স্পেসিসের কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণের মধ্যে একটি হলো সেই এলাকায় এলিয়েন স্পেসিস বা প্রজাতির প্রবেশ। যেসব প্রজাতি ভিন্ন বা নতুন বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে স্থানীয় প্রজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তাদের আগ্রাসী এলিয়েন স্পেসিস বলে। ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, পাইন বাংলাদেশে এসব গাছ এলিয়েন স্পেসিস হিসেবে গণ্য। ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, পাইন এসব বিদেশি গাছ প্রবেশ করে বাংলাদেশে আশির দশকে। 

এসব গাছের চারা বিনামূল্যেও বিতরণ করা হতো সে সময়। পরে অবশ্য ২০০৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এর চারা উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বন বিভাগও এর উৎপাদন বন্ধ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্পে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ লাগানো হয়।

আমাদের দেশে ইউক্যালিপটাস জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি দ্রুত বাড়ে। খুব একটা যত্ন করতে হয় না। চারা রোপণ করলে গরু-ছাগল এসবের পাতা খায় না। চাষ করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। এসব গাছ মাটি থেকে বেশি পরিমাণ পুষ্টি ও পানি শোষণ করে। ইউক্যালিপটাস গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকা ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করতে পারে। এরা দিন রাত ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করতে পারে। ফলে মাটি শুষ্ক থাকে। শুষ্ক মাটিতে খনিজ উপাদান আয়ন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। ফলে দেশীয় প্রজাতির গাছ বাঁচতে পারে না।

কেননা খনিজ উপাদান উদ্ভিদ শোষণ করে আয়ন আকারে। ফলে এর আশপাশের স্থানীয় জাতের গাছ এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। দেখা গেছে এই ধরনের গাছের নিচে ঘাস বা অন্য কোনো লতা জাতীয় গাছ থাকে না। মাটিও বেশ শুষ্ক থাকে। এই ধরনের বিদেশি গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় জ্বালানিতে অবদান রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিদেশি গাছের সঙ্গে দেশি গাছ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। এমনকি এদের বংশবৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে যায়। উপকারী কীটপতঙ্গ মারা পড়ে। তবে এর ফলে একটা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি গাছের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় দেখা যায় যে, এতে কোনো পাখি বাসা বাঁধে না। এমনকি এর নিচে যেমন বিশ্রাম নেওয়া যায় না, তেমনি এর কাণ্ড পাতায় কোনো অনুজীবও জন্মায় না। 

একটি গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ইউক্যালিপটাস লাগানোর ফলে মাটির উর্বরতা ১৫ শতাংশ কমে যায়। এরা মাটির পানি দ্রুত শুষে নেয়। বাষ্পীভবনের হার বেশি হয়। আমাদের দেশের ৯২ ভাগ মানুষ এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত নয়। একটি তথ্য মতে, ইথিওপিয়ায় ভুট্টা ক্ষেতের পাশে ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানোর ফলে হেক্টরপ্রতি ফলন ৪.৯ থেকে ১৩.৫ টন হ্রাস পায়। পাকিস্তানের একটি গ্রামে ১৯৯৫ সালে ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো হয়। ২০০০ সালে সেই গ্রামের পানির স্তর ২ ইঞ্চি কমে যায়। ইউক্যালিপটাসের ক্ষতি বুঝতে পেরে কেনিয়াতে এর রোপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি উভয় প্রজাতিরই পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। আকাশমণি মাটিতে থাকা পুষ্টির প্রবাহ পরিবর্তন করে দেয়। এতে করে অন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর এর প্রভাব পড়ে। এরা মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে মাটির আর্দ্রতার স্তর যেমন নিচে নেমে যায়, তেমনি পুষ্টির প্রাপ্যতাও কমে যায়। এতে করে ধীরে ধীরে স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতি হারিয়ে যেতে থাকে। এসব উদ্ভিদ প্রজাতির ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য প্রাণীও হারিয়ে যেতে থাকে। এসব উদ্ভিদের কারণে বনে আগুন লাগার প্রবণতাও বেড়ে যায়। কেননা এ ধরনের উদ্ভিদ অত্যন্ত দাহ্য প্রকৃতির হয়। 

পার্থেনিয়াম এক ধরনের আগাছা। এর উচ্চতা দুই থেকে তিন ফুট। এর আয়ুষ্কাল তিন থেকে চার মাস। এর পাতা চিকন। সবুজ রঙের। ফুল ছোট ছোট সাদা রঙের। এর অসংখ্য শাখা থাকে। ত্রিভুজের মতো ছড়ানো। এটি ১-১.৫ মিটার লম্বা হয়। গাছটি তিনবার ফুল ও বীজ দেয়। এই ফুল গোলাকার ও পিচ্ছিল। এটি অ্যাস্টারিসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। দেখতে হাইব্রিড ধান গাছের মতো। এর পাতা গাজরের পাতার মতো। এ অঞ্চলভেদে বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন কংগ্রেস ঘাস, গাজর ঘাস, চেতক চাঁদনি প্রভৃতি। 

এটি মূলত উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে দেখা যায়। এটি এখন ২০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে এটি নাকফুল নামেও পরিচিত। এটি আলো ও তাপের প্রতি অসংবেদনশীল। তবে খরা সহনশীল। 
সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের ৩৫টি জেলায় এর বিস্তার ঘটেছে বলে সম্প্রতি এক আলোচনাসভায় উঠে এসেছে। এটি বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের পরাগায়ন কমিয়ে দেয়। ধান, ছোলা, সরিষা, গমসহ বিভিন্ন ফসলের অঙ্কুরোদগমে ও বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে। এটি খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত সভায় জানানো হয়। 

মানুষ বা গবাদিপশুর পার্থেনিয়াম দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর সংস্পর্শে চুলকানির সৃষ্টি হয়। ফলে শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগ দেখা দেয়। গবাদি পশুর শরীরে লাগলে ফুলে যায়। এর ফলে তীব্র জ্বর হয়। বদহজমসহ
 নানা রকমের রোগ হয়। গবাদি পশু এই গাছ খেয়ে ফেললে জ্বর পর্যন্ত হতে পারে। মানুষের ত্বক লালচে হয় এবং ফুলে যায়। ত্বক ক্যানসারও হতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন জ্বর, মাথা ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপও হতে পারে। একটি তথ্যমতে, ভারতের পুনেতে পার্থেনিয়ামজনিত বিষক্রিয়ায় ১২ জন মারা গেছে।
 
আমের বাগান, আখ, কলা, হলুদ ক্ষেতে এর আক্রমণ বেশি। করলা ও সিম ক্ষেতেও এদের আক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়। বেগুন, টমেটো, মরিচ ইত্যাদি ফসলে এরা পরাগায়ন হ্রাস করে। এটি ফলন কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া উদ্ভিদের কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণে বাধাগ্রস্ত করে। এই গাছ থেকে চার ধরনের টক্সিন বের হয়। এগুলো হলো- পারথেনিন, হিস্টামিন, হাইমেনিন ও অবরোসিন। এই টক্সিন নানা রকমের অ্যাজমা, অ্যালার্জি, ডার্মাইটিস, ব্রঙ্কাইটিসের জন্য দায়ী। 

এই আগাছার প্রথম অস্তিত্ব দেখা যায় ২০০৮ সালে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ অ্যাডকিনস যশোর অঞ্চলে প্রথম এটি দেখতে পান। একটি পার্থেনিয়াম থেকে ৬০ হাজার গাছ হয়। এ বীজ বাতাসের সাহায্যে ছড়ায়। এটি ১০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছড়াতে পারে। যশোর ও রাজশাহী এলাকায় এর উপস্থিতি বেশি। 

এটি ফসলের ক্ষেত বা রাস্তার দুই ধারে জন্মাতে পারে। এটি সহজেই প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। মূলত এসেছে মেক্সিকো থেকে। এখন পুরো উপমহাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, চীন, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই আগাছাটিকে বিষাক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কৃষিবিদদের মতে গাছটিকে এখন দেখলেই পুড়িয়ে ফেলা উচিত। এই ক্ষেত্রে এটি কাটতে গেলে শরীরে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখান থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। তাই কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস ও চোখে চশমা পরে নিতে হবে। মোটা কাপড়ের বা জিন্সের প্যান্ট পরা থাকতে হবে। বুট-জুতা পরতে হবে। এরপর গাছ কেটে গভীর গর্ত করে তা পুঁতে ফেলতে হবে। আগাছানাশক ব্যবহার করেও এটিকে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে ডায়ইউরোন, টারবাসিল, ব্রোমাসিল জাতীয় আগাছানাশক ৫০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি হেক্টরে ছিটিয়ে দিতে হবে। জৈবিকভাবেও এদের দমন করা যায়। পাতাখেকো পোকার মাধ্যমে এদেরকে দমন করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে এই গাছ প্রথমে আমাদের চিনতে হবে। গাছ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং এর নিধনে কীভাবে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি, তা পোস্টার, বিজ্ঞাপন ইত্যাদির মাধ্যমে জানাতে হবে। 

এসব তো গেল উদ্ভিদের কথা। একবার ভাবুন বিষাক্ত সাকার মাছের কথা। এটা নিয়ে আসা হয়েছিল অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য। আর এখন এটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জলাশয়ে। দেশীয় মাছের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আর বংশ বিস্তার করছে। দেখা যাচ্ছে যে কম অক্সিজেন ও নোংরা পানিতেও এরা থাকতে পারে। ফলে সব নদী-নালা-খাল-বিলে এটি ছড়িয়ে পড়ছে। পানির নিচে এরা গর্ত করে বাঁধ ও তলদেশের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে দিচ্ছে। এর ভয়াবহতা লক্ষ করে সরকার সাকার মাছ আমদানি, প্রজনন, চাষ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। 

একটি তথ্য মতে, বাংলাদেশে বিদেশি মাছ আসা শুরু হয় ১৯৫২ সাল থেকেই। ১৯৫২ সালে সিঙ্গাপুর থেকে সিয়ামিস গৌরামি নামের মাছ আনা হয়। গোল্ডফিশ আনা হয় ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান থেকে। তেলাপিয়া নিয়ে আসা হয় ১৯৫৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে। গুপ্পি আনা হয় ১৯৫৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে। কমনকার্প ১৯৬০ সালে। জাপান থেকে ১৯৭০ সালে আনা হয় গ্রাসকার্প ও সিলভারকার্প। লাইলোটিকা ১৯৭৫ সালে থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়। মিররকার্প ও ব্রিগেডকার্প আনা হয় নেপাল থেকে যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে। থাই সরপুঁটি ও আফ্রিকান মাগুর নিয়ে আসা হয় থাইল্যান্ড থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৯ সালে। খুব সম্ভবত পিরানহা আনা হয় আমেরিকা থেকে। 

পিরানহা, আফ্রিকান মাগুর বাংলাদেশে রাক্ষুসে মাছ নামে পরিচিত। এই মাছ বন্যার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে দেশি জাতের অনেক মাছকে খেয়ে ফেলবে। এতে অনেক দেশি প্রজাতির মাছের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে পিরানহা রূপচাঁদা বা সামুদ্রিক চান্দা এবং আফ্রিকান মাগুর দেশি মাগুর নামে বিক্রি হয়ে থাকে। ২৬০ প্রজাতির স্বাদু ও ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ আছে এদের কারণে হুমকির মুখে।
 
পিরানহা মাছ দেখতে রূপচাঁদা মাছের মতো হলেও এর তীক্ষè দাঁত রয়েছে, যা রূপচাঁদা মাছের নেই। এর কানকো আছে। লেজের কাছে ছোট পাখনা আছে, যা রূপচাঁদা মাছের নেই। এদের গায়ের রং লালচে ধূসর। আফ্রিকান মাগুরের গায়ে কালো কালো ছোপ ছোপ দাগ থাকে, যা দেশি মাগুরের নেই। আফ্রিকান মাগুরের পেটের দিকে ধূসর সাদা রঙের আর দেশি মাগুরের পেটের দিক হলদে বর্ণের। আফ্রিকান মাগুর ছাই রঙের আর দেশি মাগুর কালচে রঙের। 

বাংলাদেশে ২০০৮ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে পিরানহা এবং ২০১৪ সাল থেকে আফ্রিকান মাগুর মাছের চাষ উৎপাদন, বংশবৃদ্ধি, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া মৎস্য সংঘ নিরোধ আইন ২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই আইনে আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ, মাছের রেণু, পোনা আমদানি করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়। এতে বলা হয় এই আইন অমান্য করলে দুই বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হবে। 

আমাদের দেশে যে হারে বিদেশি ব্যাঙ, সাপ, মাকড়সা প্রবেশ করছে তাতে সহজেই অনুমেয় এর পরিণতি কী হতে পারে। তাই শৌখিনতা পালনের জন্য হোক আর অন্য কোনো কারণেই হোক না কেন, বিদেশি প্রজাতি প্রবেশে সরকারের নজরদারি বাড়ানো দরকার। আমাদের দেশের মানুষকেও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

পরিবেশবিষয়ক লেখক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   শখ  প্রাণী  প্রকৃতি  বিপদ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: