প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, কতজন উত্তীর্ণ হচ্ছে, কোন বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে বা কমছে। এসব তথ্য শুধু পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; বরং দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদের চিত্রও তুলে ধরে। উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষায় এবার অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।
পরীক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এসব শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। পরীক্ষার প্রথম দিনে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর পরীক্ষার প্রথম দিন ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। গত ২০২৪ সালে প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৫ হাজার ২০৩ জন পরীক্ষার্থী। ২০২৩ সালে আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ৫২২ জন পরীক্ষার্থী।
এই অনুপস্থিতির অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করানো। শিক্ষার একটি ক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ অঞ্চলের নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করানো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিংবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির চাপে পড়ে এসব শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করানো হয়। এই শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ অকৃতকার্য হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এইচএসসি স্তরের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে- দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আসলে কোন পথে এগোচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষার্থীরাও সরাসরি দাবি করছে পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্য।
শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পৌঁছানোর আগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। কেউ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে, কেউ পরিবারকে সহায়তা করতে শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে, কেউ বিদেশমুখী হচ্ছে, আবার কেউ কারিগরি শিক্ষা বা দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের দিকে ঝুঁকছে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া কেবল একটি শিক্ষাগত পরিসংখ্যান নয়; এটি সমাজের গভীরে চলমান পরিবর্তনের প্রতিফলন।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অনেক পরিবারের আয় স্থিতিশীল থাকেনি। নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সন্তানকে কলেজে পড়ানো একটি বড় আর্থিক দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বই, যাতায়াত, কোচিং, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য শিক্ষা সম্পর্কিত ব্যয় অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। শিক্ষার সুযোগ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য সেই সুযোগকে সীমিত করে দিচ্ছে। শুধু অর্থনৈতিক কারণই নয়, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও শিক্ষার্থী হ্রাসের জন্য দায়ী। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষা মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক।
সৃজনশীলতার আড়ালে মুখস্থনির্ভর পাঠদান, নম্বরের প্রতিযোগিতা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার সীমিত চর্চা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। বিদ্যালয় থেকে কলেজে উত্তরণের সময় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নতুন পরিবেশ, কঠিন পাঠ্যক্রম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়। যথাযথ একাডেমিক পরামর্শ বা কাউন্সেলিংয়ের অভাবে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বর্তমান সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থানের বাস্তবতা।
উচ্চমাধ্যমিক, এমনকি স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেক তরুণ কাক্সিক্ষত চাকরি পাচ্ছে না। ফলে সমাজে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে দীর্ঘ সময় সাধারণ শিক্ষায় ব্যয় করার তুলনায় দ্রুত কোনো দক্ষতা অর্জন করে আয়ের পথে যাওয়াই অধিক লাভজনক। এই বাস্তবতা অনেক শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির পরও বিকল্প পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করছে। যদিও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ অবশ্যই ইতিবাচক, তবে সাধারণ শিক্ষা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে শিক্ষার্থী সরে যাওয়া একটি ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশমুখী প্রবণতাও এই পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
বর্তমানে অনেক তরুণ অল্প বয়সেই বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছে। কেউ দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, কেউ ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করছে, আবার কেউ শিক্ষার পরিবর্তে সরাসরি কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবারগুলোও অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার বদলে দ্রুত আয়ের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও সামগ্রিকভাবে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া গ্রাম ও শহরের শিক্ষাবৈষম্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শহরের তুলনায় অনেক গ্রামীণ কলেজে শিক্ষক সংকট, বিজ্ঞানাগারের বাস্তব ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাব এবং মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হলেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শিক্ষার সুযোগে এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নের জন্যও ক্ষতিকর। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও অতীতের তুলনায় নারীদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবু অনেক অঞ্চলে বাল্যবিয়ে, পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
নারী শিক্ষায় সামান্য পশ্চাদপসরণও একটি দেশের সামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে আমাদের ভবিষ্যৎ জাতির অগ্রগতির জন্য অনেক বড় বাধা হচ্ছে বাল্যবিয়ে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অপারগতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই মেয়ে শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীর চেয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির হার অধিক।
তা ছাড়া শহর অঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার অনেক বেশি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি এমন ১৩৫০ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় ৫৪৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, নিজের অসুস্থতার জন্য ৩৩৩ জন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। ৯০ জন অর্থাৎ প্রায় ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী ভালো প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল।
পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছে বা বিদেশ চলে গেছে। ফলে পরীক্ষায় অনুপস্থিত আছে এমন পরীক্ষার্থীর হার প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৯ জন। প্রায় ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছে। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে। মামলাজনিত কারণে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত বলে প্রতিবেদনে ওঠে আসে প্রায় দুই শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অর্থাৎ ২২ জন গর্ভধারণের কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকছে। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতা ও মৃত্যুসহ অন্যান্য কারণে বাকিরা অনুপস্থিত ছিল। এই হ্রাস যদি ঝরে পড়ার কারণে ঘটে, তা হলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।
তাই কেবল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না; এর পেছনের প্রকৃত কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হলো- নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব। পাঠ্যক্রম পরিবর্তন, মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন, ভর্তি নীতির পরিবর্তন- এসব সংস্কার প্রয়োজনীয় হলেও তা যদি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও অংশীজনের মতামত ছাড়া বাস্তবায়িত হয়, তা হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
একটি দেশের শিক্ষানীতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়; ঘন ঘন পরিবর্তন শিক্ষার মান ও আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। কোন অঞ্চলে, কোন শ্রেণিতে, কী কারণে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছাড়ছে- এসব তথ্য সংগ্রহ করে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। দরিদ্র পরিবারের জন্য বৃত্তি, শিক্ষা উপবৃত্তি, যাতায়াত সহায়তা এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে কলেজ পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং একাডেমিক সহায়তা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে পারে। এতে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও উন্নত হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একজন দক্ষ, অনুপ্রাণিত ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষক শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞানচর্চা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ না থাকে। অভিভাবকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানের ওপর অতিরিক্ত ফলাফলের চাপ সৃষ্টি না করে তার আগ্রহ, যোগ্যতা ও মানসিক অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়; এটি একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক গঠনের ভিত্তি এই উপলব্ধি পরিবার ও সমাজে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। সবশেষে বলা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমা যদি উন্নত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তরের ফল হয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এর পেছনে থাকে দারিদ্র্য, বৈষম্য, ঝরে পড়া, অনিশ্চয়তা কিংবা শিক্ষার প্রতি আস্থাহীনতা, তবে সেটি জাতির জন্য সতর্কবার্তা। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শ্রেণিকক্ষে। তাই উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনাকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।
সময়োপযোগী শিক্ষা, বাস্তবমুখী পাঠক্রম, সমান সুযোগ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিই পারে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, প্রশাসক ও নীতিনির্ধারক। তাদের হারিয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেই সংকুচিত করে ফেলা। তাই এখনই সময় শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, মানবিক এবং টেকসই ভিত্তির ওপর পুনর্গঠনের।
লেখক : শিক্ষক, গবেষক (মতামত লেখকের নিজস্ব)
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও