শান্তির পক্ষে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন

মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর এনডিসি, পিএসসি

মতামত

যুদ্ধ কখনো কোনো দেশ বা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। বরং দুটি দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধও শেষ পর্যন্ত শুধু

2026-07-07T12:37:00+00:00
2026-07-07T12:37:00+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
মতামত
শান্তির পক্ষে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর এনডিসি, পিএসসি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
যুদ্ধ কখনো কোনো দেশ বা জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। বরং দুটি দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধও শেষ পর্যন্ত শুধু সেই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বাংলাদেশেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব আমরা দেখেছি। অতীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধ হলেও বাংলাদেশের ওপর এতটা তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েনি। তবে একটি বিষয় চিরন্তন সত্য- যুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, নিত্যপণ্যের বাজার, জ্বালানি সরবরাহ, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা- সবকিছুতেই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য সংকট দেখা দেয়। এ সংকটের জন্য সরকারকে এককভাবে দায়ী করা সমীচীন হবে না। কারণ এর মূল কারণ ছিল আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সংকট নিরসনে উদ্যোগী হয়। জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য মানুষ দেখেছে, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারের সতর্কতার কারণে দেশে কোনো খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়নি। 

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছিল। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। এ সময় কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করা হয়। সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় অপচয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। বিদ্যুৎ খাতেও অযথা লোডশেডিং না করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আপাতত থেমে গেলেও আমরা চাই এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটুক। তবে এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইরান যে দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে একটি পরাশক্তির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিশ্বের বহু দেশের জন্য শিক্ষণীয়। এটি শুধু সামরিক সাহসের বিষয় নয়; বরং একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সামনে ইরান দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ইরান মাথা নত করেনি। বরং এই সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ, যারা আগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল, তারাও ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করে।

যুদ্ধ কেউ চায় না। আমরাও শান্তির পক্ষেই। কিন্তু কোনো রাষ্ট্র যদি অন্য একটি দেশের ওপর জোরপূর্বক যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তা হলে নিজের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো দেশ বাংলাদেশের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তা হলে কি বাংলাদেশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে? নিশ্চয়ই নয়। আমি বিশ্বাস করি, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও পাশে দাঁড়াবে। তবে আমাদের প্রথম এবং প্রধান অবস্থান হওয়া উচিত- শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান।

এই সংঘাত শুধু সামরিক বাস্তবতাকেই সামনে আনেনি; মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিয়া-সুন্নি বিভাজনকে কেন্দ্র করে যে দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ব্যবধান কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। অন্তত সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট।

বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অবিচল থাকা। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গ্যাস, জ্বালানি ও বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও বহুলাংশে আমদানিনির্ভর। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

বাঙালি জাতি নতুন সম্ভাবনা ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণে সবসময়ই সাহসী। মধ্যপ্রাচ্যসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে শিল্প, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব। একইভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো হলে তা পারস্পরিক উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে যথেষ্ট আগ্রহী। সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।

এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকেও ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তাই আশা করা যায়, ভবিষ্যতে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব আরও বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও এখন দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিতে আগ্রহী। যুদ্ধ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; বরং নতুন সংকটের জন্ম দেয়। সে কারণেই শক্তির প্রদর্শনের পরিবর্তে পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহারে, তা বিশ্বের অনেক দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তিই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশেরও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং দেশীয় সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের জন্য চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই চীন সফর করেছেন। এই সফর একটি বার্তা বহন করে- বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে বহুমাত্রিক করতে চায় এবং কোনো একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের পরিধি যত বিস্তৃত হবে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও তত শক্তিশালী হবে।

অতীতের বিভিন্ন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পরপরই ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়াকে অনেকে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এ ধরনের ঘটনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। কারণ একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র তার নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করে। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাই দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতে, আধিপত্য বা নির্ভরতার ভিত্তিতে নয়।

বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি এখন- বাংলাদেশ ফার্স্ট। এই নীতিকে সামনে রেখেই বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বন্ধুত্ব কখনোই অধীনতার সমার্থক হতে পারে না; বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই টেকসই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা। এমন একটি নীতি, যেখানে বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকবে, আবার কোনো পক্ষের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশেও বাংলাদেশ পরিণত হবে না। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক নেতৃত্ব- এই তিনটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়া সার্ককে নতুনভাবে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো নিয়েও আলোচনা হতে পারে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই খুঁজে নিতে হবে।

বাংলাদেশের চারপাশে অবস্থিত ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করা সময়ের দাবি। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম শুধু নিরাপত্তাই নয়, অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দূরদর্শী চিন্তা থেকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নানা রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সংস্থাটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিন্তু সময়ের প্রয়োজন আজও ফুরিয়ে যায়নি। বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই নতুন উদ্যমে আঞ্চলিক সংলাপ ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে যুক্ত হবে ব্রিকস ও আশিয়ানের মতো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে। বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক দক্ষতা- সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।

যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দেয়- সংঘাতের মাধ্যমে সাময়িক বিজয় অর্জন করা সম্ভব হলেও স্থায়ী শান্তি কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় না। শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার, সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে। তাই বাংলাদেশের পথ হওয়া উচিত শান্তির পথ; তবে সেই শান্তি যেন দুর্বলতার প্রতীক না হয়। জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কেউ আঘাত হানলে তা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা ও সাহস অবশ্যই আমাদের থাকতে হবে।

আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু শান্তির পূর্বশর্ত আত্মমর্যাদা, প্রস্তুতি এবং জাতীয় ঐক্য। যে জাতি নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকে, শান্তির মূল্যও তারাই সবচেয়ে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশকে আগামী দিনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। 

লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ

সমেয়র আলো/আআ


  বিষয়:   শান্তি  পক্ষ  সার্বভৌমত্ব  প্রশ্ন 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: