জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে

সম্পাদকীয়

মতামত

জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৬১ জন। এই তথ্য আমাদের আবারও মনে

2026-07-07T02:01:05+00:00
2026-07-07T02:01:05+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
মতামত
জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৬১ জন। এই তথ্য আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সড়কে প্রাণহানি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী জননিরাপত্তা সংকট। প্রতি মাসে এমন পরিসংখ্যান প্রকাশিত হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে না। এর অর্থ, সমস্যার মূল কারণগুলো এখনও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে খণ্ডিত উদ্যোগ নয়, জবাবদিহিভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সবচেয়ে জরুরি।

দুর্ঘটনার বড় অংশ ঘটেছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সীমিত সক্ষমতা এবং পরিবহন খাতের অনিয়মকে দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। 

এর আগে শ্রমিক সংগঠনের গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক দীর্ঘ কর্মঘণ্টা পালন করেন, সাপ্তাহিক বিশ্রামও মেলে না অনেক সময়। চালকদের ঘুমজনিত সমস্যাকে দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এসব তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করলে ধারণা হয় যে, দুর্ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত অসতর্কতার ফল নয়, এটি ব্যবস্থাগত দুর্বলতারও প্রতিফলন।

এই বাস্তবতায় শুধু চালকের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। চালকের দায়িত্ব অবশ্যই আছে। তবে তিনি যে পরিবেশে কাজ করেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো দুঃসাধ্য কাজ। অযোগ্য চালকের লাইসেন্স পাওয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, নিরাপদ সড়ক নকশার অভাব, মহাসড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবহন খাতে প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর কারণে ধারাবাহিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। 

দেশে সড়ক আইন আছে। নজরদারির ব্যবস্থাও আছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। তারপরও সড়ক দুর্ঘটনায় লাগাম টানা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া উদ্যোগগুলো যে কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। 

দুর্ঘটনা রোধে কেবল শক্ত আইন থাকলেই চলে না। এর কার্যকর প্রয়োগও করা চাই। এ জন্য বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখা সংগত হবে না। 

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভুয়া বা অনিয়মিত লাইসেন্সের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। কেবল চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করলেই হবে না। 

পরিবহন চালক-শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা থাকতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর এই দায়িত্বটা নিতে হবে পরিবহন মালিকদেরই। বিশেষ করে মহাসড়কে বিশ্রামাগার থাকতে হবে। কিছু বিশ্রামাগার করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। চালক-শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও জরুরি।


পথচারীবান্ধব সড়ক, নিরাপদ সড়ক নকশা, আধুনিক যানবাহন নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমতে পারে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে যথাযথভাবে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেসব সুপারিশ পাওয়া যায় সেগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কি না সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতি কেবল ভুক্তভোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও এটা অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনে। তাই সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টানা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ সড়ক কেবল অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সুশাসন, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা এটা। আর এই পরীক্ষায় সফল হতে দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   জবাবদিহিমূলক  ব্যবস্থা  সম্পাদকীয় 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: