পানির নিচে প্রবৃদ্ধির খতিয়ান : বন্যা ও অদৃশ্য অর্থনৈতিক সংকট

ড. মতিউর রহমান

মতামত

জুলাই ২০২৬। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আবারও বন্যার করালগ্রাস। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

2026-07-13T22:53:49+00:00
2026-07-13T22:53:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
মতামত
পানির নিচে প্রবৃদ্ধির খতিয়ান : বন্যা ও অদৃশ্য অর্থনৈতিক সংকট
ড. মতিউর রহমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
জুলাই ২০২৬। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আবারও বন্যার করালগ্রাস। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারে পাহাড়ি ঢল এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। কোথাও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে, কোথাও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। 

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিবন্দি মানুষের ছবি, হতাহতের সংবাদ ও ছবি, উদ্ধারকাজের দৃশ্য এবং ত্রাণের আকুতি আমাদের মনকে নাড়া দেয়। কিন্তু এই মানবিক সংকটের আড়ালে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা আড়ালে থেকে যায়- তা হলো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বন্যার নীরব ও গভীর আঘাত।

বাংলাদেশে বন্যা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা এখনও মূলত তাৎক্ষণিক মানবিক বিপর্যয়কে ঘিরেই আবর্তিত হয়। কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলো বা কত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠল-এসব তথ্যই সংবাদ শিরোনামে স্থান পায়। অথচ একটি আধুনিক, আন্তঃসংযুক্ত অর্থনীতিতে বন্যার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত। এটি শুধু মানুষের বসতি ধ্বংস করে না; বরং উৎপাদন, বাজার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং রফতানি খাতকে একযোগে পঙ্গু করে দেয়। অর্থনীতির এই অদৃশ্য কাঠামোগত ক্ষতির হিসাব সাধারণত কোনো প্রচলিত সরকারি পরিসংখ্যানে নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে না।

এবারের বন্যার জটিল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের দ্বিমুখী রূপ নিয়েছে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করেছে। টেকনাফে ২৪৫ মিমি, চট্টগ্রামে ২০৩ মিমি. এবং ভারতের মাওসিনরামে ১৭৭ মিলিমিটারের মতো রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত প্রমাণ করে যে, এই বন্যা আর সাধারণ কোনো মৌসুমি ঘটনা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের যুগের একটি জটিল ও বহুমাত্রিক ঝুঁকি। কয়েক দশক আগেও বন্যা ছিল মূলত নদীকেন্দ্রিক। 

এখন একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, নগর জলাবদ্ধতা এবং আকস্মিক বন্যা- সবকিছু মিলিয়ে একটি যৌগিক দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে। এর পেছনে কেবল প্রকৃতির দায় নেই, মানুষের তৈরি নানা ভুলও সমানভাবে দায়ী। অপরিকল্পিত নগরায়ণ নদী ও খাল দখল, জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কারণে একই পরিমাণ বৃষ্টিতেও এখন ক্ষতির তীব্রতা অনেক বেশি।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রাকৃতিক নালা ভরাটের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার পথ সংকুচিত হয়েছে। একইভাবে সিলেট অঞ্চলে হাওড় ও জলাভূমির স্বাভাবিক জলধারণ ক্ষমতা বিভিন্ন অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপে কমে এসেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক সক্ষমতা দেশ হারাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে অর্থনীতিকে। বন্যার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে কৃষিতে। 

তবে কৃষিক্ষেত্রের ক্ষতিকে আমরা প্রায়ই কেবল নষ্ট হওয়া ফসলের বাজারমূল্য দিয়ে বিচার করি, যা প্রকৃত হিসাবের চেয়ে অনেক কম। বাস্তবে একজন কৃষকের ক্ষতি তার চেয়ে অনেক গভীর। জমিতে ব্যবহৃত সার, উন্নত বীজ, সেচ্ শ্রম, কীটনাশক এবং কৃষিযন্ত্রের পেছনে যে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়, তা এক নিমেষে পানিতে ভেসে যায়।

অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক ব্যাংক, এনজিও কিংবা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে উৎপাদনে বিনিয়োগ করেন। বন্যায় ফসল নষ্ট হলে সেই খঋণ পরিশোধের সক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়। ফলে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুহূর্তের মধ্যে গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী আর্থিক দেউলিয়াত্বে পরিণত হয়। হবিগঞ্জের খোয়াই নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠার অর্থ শুধু নদীর পানি বৃদ্ধি নয়; এর অর্থ হলো কৃষিজমি দীর্ঘ সময় প্লাবিত থাকা, গ্রামীণ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়া, স্থানীয় বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং কৃষকের আয়শূন্য হয়ে পড়া।

এখানেই বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি মৌলিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়। দেশ সামষ্টিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সফল হলেও অর্থনীতিকে এখনও যথেষ্ট স্থিতিস্থাপক বা দুর্যোগ-সহনশীল করে তোলা যায়নি। একই ধরনের দুর্যোগ প্রতি বছর ঘটছে, কিন্তু প্রতিবারই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রায় শূন্য থেকে আবার জীবনযুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং কৃষকের জন্য কোনো কার্যকর দুর্যোগ বীমা ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। উন্নত অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি বড় অংশ বীমা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি-বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়, যাতে ব্যক্তির ওপর পুরো চাপ না পড়ে। বাংলাদেশে সেই অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর বর্তায়। ফলে একটি বন্যা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতি করে না, বরং অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি কমানো, আগাম সতর্কবার্তা এবং আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। কিন্তু বন্যার অর্থনৈতিক অভিঘাত কমানোর ক্ষেত্রে এখনও আমাদের নীতিগত প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো, বন্যাকে এখনও মূলত একটি মানবিক ও ত্রাণের সংকট হিসেবে দেখা হয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে নয়। ফলে প্রতি বছর একই চিত্র দেখা যায়- দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সংস্কারের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু দুর্যোগ পূর্ব প্রতিরোধমূলক বিনিয়োগ আশানুরূপ হয় না।

এই বাস্তবতার স্থায়ী পরিবর্তন করতে হলে প্রথমেই বন্যা ব্যবস্থাপনাকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের করে 'অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা'র আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় সব বড় নদীর উৎস দেশের বাইরে থাকায় উজানের বৃষ্টিপাত, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং নদীর বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় ছাড়া কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় এই আঞ্চলিক সহযোগিতা আর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের বিষয় নয়, এটি আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পূর্বশর্ত।

আমাদের কৃষি অর্থনীতিতে রাষ্ট্র-সমর্থিত 'ফসল বীমা', জলবায়ু ঝুঁকিভিত্তিক কৃষিঋণ এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ভারত, কেনিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো দেশের আবহাওয়া-সূচকভিত্তিক কৃষি বীমার সফল অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি 'দুর্যোগ পুনরুদ্ধার তহবিল' গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে বন্যার পরে তারা স্বল্পসুদে ঋণ ও কর-সুবিধা পেয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।

জাতীয় বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনকে কেবল ব্যয় বা লস প্রজেক্ট হিসেবে না দেখে এটিকে একটি অত্যন্ত 'উৎপাদনশীল বিনিয়োগ' হিসেবে দেখতে হবে। একটি বন্যা-সহনশীল সড়ক, একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা একটি আধুনিক বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা ভবিষ্যতে শত শত কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি বাঁচিয়ে দেয়। 

অর্থনীতির ভাষায় এগুলো হলো 'প্রতিরোধমূলক বিনিয়োগ', যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত বেশি। নতুন মহাসড়ক, শিল্পাঞ্চল বা আবাসন প্রকল্পের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যা, নদীপ্রবাহ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক করা উচিত, অন্যথায় আজকের অপরিকল্পিত উন্নয়নই আগামী দিনের বড় দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, দুর্যোগের অর্থনৈতিক মূল্যও তত বাড়ছে। দুই দশক আগের একটি বন্যা প্রধানত কেবল কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করত। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, পোশাক খাতের রফতানি, পর্যটন, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো। ফলে একই বন্যার সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত এখন বহুগুণ বেশি। এই বাস্তবতায় শুধু দুর্যোগ পরবর্তী জোড়াতালির পুনর্বাসন দিয়ে আর চলবে না। প্রয়োজন একটি সামগ্রিক 'দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনীতি' গড়ে তোলা।


বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপের দেশ। নদী, বর্ষা এবং বন্যা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বা নদীকে পুরোপুরি শাসন করে টিকে থাকা যাবে না। আমাদের শিখতে হবে বন্যার সঙ্গে কীভাবে কার্যকরভাবে সহাবস্থান করা যায়। নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ নদীকে আটকে না রেখে নদীর জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি করে বন্যা ঝুঁকি কমিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নদী, হাওড় ও জলাভূমিকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধক না ভেবে প্রাকৃতিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

জুলাই ২০২৬-এর বন্যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো শেষ হবে। নদীর পানি নেমে যাবে, সংবাদমাধ্যমের শিরোনামও বদলে যাবে। কিন্তু যদি এই বন্যা থেকে আমরা কোনো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত শিক্ষা গ্রহণ না করি, তা হলে আগামী বর্ষায় আবার একই দৃশ্য, একই ক্ষতি এবং একই নিষ্ফল আলোচনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। 

আমরা কি প্রতি বছর কেবল বন্যার ক্ষতি গুনে যাব, নাকি বন্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে একটি দূরদর্শী, জলবায়ু-সহনশীল অর্থনৈতিক পরাশক্তি গড়ে তুলব-সেই সাহসী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ। 

গবেষক ও উন্নয়নকর্মী
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 




  বিষয়:   পানি  প্রবৃদ্ধি  খতিয়ান  বন্যা  অর্থনৈতিক সংকট 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: