ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং শত্রুপক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে এক ইসরায়েলি সেনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সামরিক আদালত। ২০১৫ সালের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা যুদ্ধের সময় (অপারেশন রাইজিং লায়ন) এই তথ্য পাচারের ঘটনা ঘটেছিল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মিলিটারি পুলিশ, ইসরায়েল পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট-এর যৌথ দীর্ঘ তদন্তের পর ওই সেনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ওই সেনার ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিছু বার্তা পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তার মধ্যে একজন ইরানি হ্যান্ডলার (তথ্য সংগ্রহকারী এজেন্ট) হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে এবং অর্থের বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি ও ভিডিও তুলে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।
লোভে পড়ে ওই সেনা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার (ইন্টারসেপশন) দুটি ভিডিও গোপনে ধারণ করে ওই এজেন্টের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং এর বিনিময়ে অর্থও গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আরও বেশ কিছু ভিডিও ওই ইরানি এজেন্টকে সরবরাহ করেছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু দিন পর ইরানি এজেন্টের অতিরিক্ত চাপে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই সেনা। এরপর তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় তার ইউনিটের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং এর পরদিনই শিন বেট তাকে গ্রেফতার করে।
আদালতে সামরিক প্রসিকিউটররা এই অপরাধের তীব্রতা বিবেচনা করে অভিযুক্ত সেনার ৭ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। তবে সামরিক তথ্য সরাসরি নিজের অবস্থান থেকে পাচার না করা, স্বেচ্ছায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং কমান্ডারদের কাছে অপরাধ স্বীকার করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১ হাজার শেকেল জরিমানা এবং পদাবনতি দিয়ে আইডিএফ-এর সর্বনিম্ন পদ ‘প্রাইভেট’ পদে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সেনার নাম বা ইউনিটের পরিচয় প্রকাশ করেনি আইডিএফ।
সময়ের আলো/কহু