হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের নতুন করে হামলা এবং সংঘাতের পারদ চরমে পৌঁছানোর মধ্যেই তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের তেল চোরাচালান এবং অবৈধ শিপিং নেটওয়ার্কের মূল হোতা ও তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন শামখানির বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ‘শিপিং সাম্রাজ্য’ গুঁড়িয়ে দিতে এবার একযোগে ৫০টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি বিভাগের যৌথ তদন্তের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এই চোরাচালান চক্রটিই বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানি সচল রাখার প্রধান চালিকাশক্তি।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ হোসেন শামখানির এই অবৈধ নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেশি-বিদেশি নাগরিক, লজিস্টিকস ফার্ম এবং অফশোর শেল কোম্পানি (নামসর্বস্ব ভুয়া প্রতিষ্ঠান) ব্যবহার করে আসছিল। এরা মূলত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ ইরানি ও রুশ তেল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া এবং সেই বিক্রির কোটি কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন পুনরুদ্ধারে পারদর্শী। এই চক্রটি দুবাই, সিঙ্গাপুর, ভারত এবং হংকংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক হাবে বসে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ প্রতারণার ওপর ভর করে টিকে আছে এবং এই শামখানি নেটওয়ার্ক তাদের অন্যতম প্রধান লাভজনক ইঞ্জিন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এই আর্থিক অবকাঠামোকে আমরা পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও ধ্বংস করে দিচ্ছি।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও হংকং ভিত্তিক একাধিক শিপিং কোম্পানি এবং পানামা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা ও পালাউয়ের পতাকাবাহী বেশ কয়েকটি বিশাল কন্টেইনারবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী ছায়া জাহাজ (শ্যাডো ফ্লিট) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় থাকা এই চক্রের সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সাধারণ জনগণ যখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, তখন দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও এই প্রভাবশালী অভিজাত এলিটরা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তেহরানকে তাদের এই আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি করতে আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করবে ওয়াশিংটন।
সময়ের আলো/কহু