জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অনেক মানুষই নিজেদের অতীতের ভুল ও গুনাহের কারণে অপরাধবোধে ভোগেন। কিন্তু এই অনুশোচনা যেন কখনোই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার পথে বাধা না হয়। ইসলাম মানুষকে অতীতের পাপ থেকে মুক্তি লাভের সুস্পষ্ট পথ দেখিয়েছে।
সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার ইসলাম-পূর্ব জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
গুনাহ থেকে সওয়াবের পথে
যারা অতীতে বিভিন্ন পাপ বা ভুলে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের জন্য ইসলামে রয়েছে আশার বার্তা। আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরত কিংবা নিষ্ঠার সঙ্গে হজ পালন— এসবের মাধ্যমে পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আল্লাহর ক্ষমার সামনে কোনো পাপই এত বড় নয় যে তা মাফ হতে পারে না।
এর ফলে একজন মানুষ যেন নতুন একটি অধ্যায় শুরু করার সুযোগ পায়। অতীতের ভুলের বোঝা ঝেড়ে ফেলে সে পরিচ্ছন্ন আমলনামা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
শুধু গুনাহ মাফই নয়, আন্তরিক তওবার মাধ্যমে আল্লাহ চাইলে মানুষের অতীতের পাপকেও নেকিতে পরিণত করতে পারেন। তাই সত্যিকার অনুতাপ একজন মানুষকে আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী করে তুলতে পারে।
এত বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তওবা করতে দেরি করা উচিত নয়। কালক্ষেপণ মানুষকে ভালো কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করতেন।
তওবা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, হৃদয়ের ভার লাঘব করে এবং তাকে সৎপথে ফিরে আসার শক্তি জোগায়। আন্তরিক অনুতাপের মাধ্যমে অতীতের ভুল সংশোধনের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও উন্মুক্ত হয়।
আল্লাহর এই অফুরন্ত দয়ার সুযোগকে অবহেলা করা উচিত নয়। কেউ আন্তরিকভাবে তার কাছে ফিরে এলে তিনি তার গুনাহ ক্ষমা করেন।
পবিত্র কোরআনের সূরা আজ-জুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ