সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত এই ফিল্মে দেখা যাবে ছোটপর্দার আলোচিত অভিনেত্রী কেয়া পায়েলকে। চরকির সঙ্গে অভিনেত্রীর এটি প্রথম কাজ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ফিল্মের শুটিং।
পরিচালক জানান, কাছাকাছি দুই সময়ের মানুষের গল্প এটি। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে।
এই গল্পে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। তার চরিত্রটি আবর্তিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের মোহনীয় রঙিন স্বপ্ন ঘিরে।
ফিল্মটি প্রসঙ্গে কেয়া পায়েল বলেন, বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে, প্রথমত আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ, তৃতীয়ত এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। গল্পে আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন।
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মে কেয়া পায়েলের বিপরীতে রয়েছেন আরিফিন শুভ। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি হয়ে আসছেন শুভ-পায়েল। এই ফিল্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কাজ করছেন শুভ। তাকে দেখা যাবে আনিস চরিত্রে। যিনি স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল ও একাকী জীবনযাপন করা এক পুরষ।
আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০’-এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ এটি। এর আগে এমন চরিত্রে কাজ করা হয়নি আমার। চরিত্রটি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের, যার পৃথিবীজুড়েই রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষরা। ফিল্মটির মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এ যুগের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েন কেন্দ্র করে।
পরিচালক জাহিদ প্রীতম বলেন, আমরা প্রতিদিন যে সামাজিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আমাদের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের যে সংঘাত, তার এক বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি মিলবে এই কনটেন্টে।
কনটেন্টে হিউমার, রোমান্স এবং আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত রয়েছে, যা প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করবে।
মিনিস্ট্রি অব লাভের (এমওএল) ব্যানারে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হতে যাচ্ছে সপ্তম ফিল্ম এবং এর সহ-প্রযোজনায় আছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবিয়াল। ফিল্মটি নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রজেক্টটের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটা সম্পর্কের গল্প দর্শকরা দেখতে পারবেন।
সময়ের আলো/জেডআই